মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ:
Print news

মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় তৃতীয় বিমানবাহী রণতরি বহর মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে নতুন করে কয়েক হাজার সেনাসদস্য পাঠানো হচ্ছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি বহর রোববার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো নৌঘাঁটি ত্যাগ করেছে। এই মোতায়েনের ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনী ও বিভিন্ন ইউনিটের আরও ৯ থেকে ১০ হাজার সেনা, নাবিক ও মেরিন সদস্য যুক্ত হতে যাচ্ছেন। রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, এর সমাপ্তিও হতে হবে সেখানেই: প্রধানমন্ত্রী। এশিয়ান গেমস / রান উৎসবের ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে সোনা ধরে রাখল ভারত। মার্কিন এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, আগামী নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের কাছাকাছি এলাকায় তিনটি বিমানবাহী রণতরি এবং উভচর অভিযানে সক্ষম দুটি সামরিক দল অবস্থান নেবে। এই বিপুল সামরিক উপস্থিতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরিস্থিতি সাপেক্ষে যেকোনো বড় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কৌশলগত সক্ষমতা দেবে। নতুন এই বহরে এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যার সঙ্গে নতুন এই বাহিনী যুক্ত হবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি কোনো হামলার নির্দেশ দেন, তবে তার জন্য মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির যেকোনো অবনতির জন্য তেহরানও প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে এক বক্তব্যে ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত ‘খুব শিগগির’ শেষ হবে। টেক্সাসের ডেন্টনে পিটারবিল্ট মোটরসের কারখানায় তিনি বলেন, ইরানকে হয় যৌক্তিক ও বুদ্ধিদীপ্ত পথ বেছে নিতে হবে, অন্যথায় তাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাণিজ্যিক চুক্তির মতো ইরানের সঙ্গেও একটি স্থায়ী সমঝোতা প্রয়োজন। মাল্টার দাম ৫২০ টাকা কেন, ব্যাখ্যা চেয়ে ব্যবস্থার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর। যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য হতে পারে ইরানের ওপর কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টি করা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থান শক্ত করতে চায়। গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যে ১২০টির বেশি উড়োজাহাজ ও প্রচুর সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে রয়েছে ই-৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াকস, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং আকাশে জ্বালানি ভরার সক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাংকার উড়োজাহাজ। ইরান যুদ্ধ অষ্টম মাসে প্রবেশের সময় দুই পক্ষই সামরিক সংঘাত বাড়ানো কিংবা কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

এর আগে মার্চ মাসেও পেন্টাগন ইউএসএস ত্রিপোলি ও ইউএসএস বক্সারকে কেন্দ্র করে দুটি উভচর প্রস্তুতকারী বহর এবং ফোর্ট ব্র্যাগের ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বাহিনীর প্রায় ২ হাজার সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে। এই দুটি মেরিন ইউনিটের মাধ্যমে সে সময় অতিরিক্ত ৪ হাজার ৫০০ সেনা ও নাবিক মোতায়েন করা হয়েছিল। ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমান উত্তেজনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

কূটনৈতিক পর্যায়েও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনায় ইরান সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে এর বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও জব্দ করা সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, এগুলো কেবল যুক্তরাষ্ট্রের একক নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা, যা পরমাণু কর্মসূচির কারণে নিরাপত্তা পরিষদ থেকে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস বাকি।

সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন। চলতি সপ্তাহে ইরানের রেল ও গাড়ি উৎপাদন খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য দেশটির রাজস্ব আয়ের উৎস সংকুচিত করা। ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, কূটনৈতিক আলোচনা যেদিকেই যাক না কেন, সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি তারা সবসময় খোলা রাখতে চায়।

শেয়ার করুন
শিরোনাম :
বীরগঞ্জে বেগুন ক্ষেতে বিষ প্রয়োগে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি ইউটিউবে ১০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবারের মাইলফলক স্পর্শ করল সিএমভি উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবে বড় রদবদল শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া আইনগত ও চলমান: দীনেশ ত্রিবেদী মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে সোনা ধরে রাখল ভারত দেশের মানুষের নিরাপত্তা নেই, বললেন জামায়াত আমির টাইব্রেকারে জিতে ফুটবলের ফাইনালে বান্দরবান সদর প্রতিরক্ষায় রেকর্ড বরাদ্দ বাড়াচ্ছে রাশিয়া, কাটছাঁট শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে এসবিএসি ব্যাংকে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নিয়োগ শুরু হচ্ছে নতুন কুঁড়ি-২০২৬: নিবন্ধন চলবে অক্টোবর মাসজুড়ে মাধবকুণ্ড: জলপ্রপাতের আড়ালে প্রাণিজগতের এক অজানা জগৎ জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে সহিংসতা, আটক ২ হাজার ট্রাম্পের হুমকির পর জ্বালানি বাজারে জি৭-এর ১০ কোটি ব্যারেল ফেসবুক পোস্ট নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ হাতছাড়া, শ্রীলঙ্কার কাছে হারল বাংলাদেশ ছুরিকাহত পাইলট স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতায় বাঁচল ফ্লাইদুবাইয়ের যাত্রীরা ব্রুনাইয়ে ১৪৮ পুরুষ কর্মী নিয়োগ: আবেদনের নিয়ম ও শর্তাবলি স্ত্রী ও বাবার সঙ্গে ‘কাজরা রে টু’-তে নাচের আগ্রহ বীরগঞ্জে বেগুন ক্ষেতে বিষ প্রয়োগে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি ইউটিউবে ১০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবারের মাইলফলক স্পর্শ করল সিএমভি উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবে বড় রদবদল শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া আইনগত ও চলমান: দীনেশ ত্রিবেদী মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে সোনা ধরে রাখল ভারত দেশের মানুষের নিরাপত্তা নেই, বললেন জামায়াত আমির টাইব্রেকারে জিতে ফুটবলের ফাইনালে বান্দরবান সদর প্রতিরক্ষায় রেকর্ড বরাদ্দ বাড়াচ্ছে রাশিয়া, কাটছাঁট শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে এসবিএসি ব্যাংকে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নিয়োগ শুরু হচ্ছে নতুন কুঁড়ি-২০২৬: নিবন্ধন চলবে অক্টোবর মাসজুড়ে মাধবকুণ্ড: জলপ্রপাতের আড়ালে প্রাণিজগতের এক অজানা জগৎ জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে সহিংসতা, আটক ২ হাজার ট্রাম্পের হুমকির পর জ্বালানি বাজারে জি৭-এর ১০ কোটি ব্যারেল ফেসবুক পোস্ট নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ হাতছাড়া, শ্রীলঙ্কার কাছে হারল বাংলাদেশ ছুরিকাহত পাইলট স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতায় বাঁচল ফ্লাইদুবাইয়ের যাত্রীরা ব্রুনাইয়ে ১৪৮ পুরুষ কর্মী নিয়োগ: আবেদনের নিয়ম ও শর্তাবলি স্ত্রী ও বাবার সঙ্গে ‘কাজরা রে টু’-তে নাচের আগ্রহ