ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় প্রীতি গ্রুপের কারখানা প্রাঙ্গণে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের ন্যায়বিচার এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে জামগড়া এলাকায় কারখানাটির ফটকের সামনে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটি ও টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়। বিস্ফোরণের পর থেকেই প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল, অক্সফোর্ড কালারস ও এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কসহ সংশ্লিষ্ট তিনটি কারখানা টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে এবং ফটকে ঝুলছে বন্ধের নোটিশ।
মানববন্ধনে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের দায়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী নিহত ও আহত শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে পোশাক কারখানাগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিস্ফোরণের আগের দিনই পরিকল্পিতভাবে অনেক শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছিল, যা সন্দেহের উদ্রেক করে। তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারে মালিকপক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের সিইও রাজীব আহমেদ তালুকদার ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় তার প্রভাবে মামলা প্রভাবিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের ঢাকা জেলা সভাপতি মিজানুর রহমান নিহতদের পরিবার ও আহত শ্রমিকদের পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনে আহতদের বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবি জানান।
গত রবিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের ভেতরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এর ফলে পার্শ্ববর্তী ৭-৮টি গাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং বিকট শব্দে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় একাধিক সিলিন্ডার ২০০ থেকে ৩০০ গজ দূরত্বের আবাসিক ভবন ও টিনের চাল ফুটো করে গিয়ে পড়ে। ভয়াবহ এই ঘটনায় ঘটনাস্থলে ও এর আশেপাশে ৬ জন এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ২ জনসহ মোট ৮ জন প্রাণ হারান। এ ঘটনায় কমপক্ষে ২৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূইয়া জানিয়েছেন, কাভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কারখানা ভবনের জানালার কাচসহ অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে আইনি তদন্ত ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আসলে তার প্রভাবের কারণে কি এই মামলা ঘুরে গেছে কিনা, এবং এই মামলায় শ্রমিকেরা যাতে মামলা করতে না পারে, সে কারণে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই মামলা হয়েছে কিনা, এটা খতিয়ে দেখতে হবে। ”। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগুন আশপাশে থাকা আরো কয়েকটি সিলিন্ডারবাহী গাড়ীসহ অন্তত ৭-৮টি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি ||। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটি ও টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন এ কর্মসূচির আয়োজন করেন৷। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিশ্চিত করা, দেশের সব পোশাক কারখানায় কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত কারখানা পরিদর্শন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা। চাকরির আরও তথ্য: বিস্ফোরণের ঠিক আগের দিনও বেআইনিভাবে বেশ কিছু শ্রমিককে কারখানা থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।





