অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর জরিমানা ও পয়েন্ট কাটার শঙ্কায় প্যাট কামিন্সরা

প্রকাশ:
Print news

অস্ট্রেলিয়ার ডারউনে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। টাইগারদের এই ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দের মাঝেই বিশ্ব ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার স্লো ওভার-রেটের বিষয়টি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওভার শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও তার দলের ওপর বড় ধরনের আর্থিক জরিমানা এবং আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট কাটার শাস্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ম্যাচের তৃতীয় দিন শনিবার নির্ধারিত ৯০ ওভারের কোটা পূরণে ব্যর্থ হয় অস্ট্রেলিয়া। তারা পুরো দিনে মাত্র ৮৬ ওভার বোলিং করতে সক্ষম হয়। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, টেস্ট ক্রিকেটে প্রতি ঘণ্টায় ১৫ ওভার হিসেবে মোট ৯০ ওভার বল করা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে চার ওভার পিছিয়ে থাকায় অজিদের শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ওভারের ঘাটতির জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির পাঁচ শতাংশ জরিমানা করা হয়।

যদি প্রতিটি টেস্ট ম্যাচের জন্য অজি ক্রিকেটারদের ২০ হাজার ডলার পারিশ্রমিক ধরা হয়, তবে চার ওভার কম বল করার দায়ে দলের ১১ জন খেলোয়াড়কে মোট ৪৪ হাজার ডলার বা জনপ্রতি ৪,০০০ ডলার জরিমানা গুনতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই জরিমানার পরিমাণ প্রায় ৩৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা। আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিল থেকে চার পয়েন্ট কেটে নেওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ৮৪ পয়েন্ট ও ৭৭.৭৮ শতাংশ জয় নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট এই শাস্তির ফলে ৮০-তে নেমে আসতে পারে। যদিও জয়ের শতকরা হারে এর প্রভাব পড়বে না, তবুও এই ঘটনা অস্ট্রেলিয়ান শিবিরে পুরোনো দুঃস্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। ২০২০ সালের বক্সিং ডে টেস্টে স্লো ওভার-রেটের কারণে চার পয়েন্ট কাটা যাওয়ায় ২০২১ সালের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল ক্যাঙ্গারুদের।

তবে এই শাস্তির ক্ষেত্রে আইসিসির একটি বিশেষ নিয়ম রয়েছে। যদি প্রতিপক্ষ দল ৮০ ওভারের কম ব্যাট করে অথবা দুই ইনিংসে মিলিয়ে ১৬০ ওভারের কম স্থায়ী হয়, তবে স্লো ওভার-রেটের শাস্তি প্রযোজ্য হয় না। কিন্তু বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভার ব্যাট করায় অস্ট্রেলিয়া এই নিয়মের সুরক্ষা পাচ্ছে না। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে ডারউইন টেস্টের ম্যাচ রেফারির ওপর। প্রচণ্ড গরম এবং উইকেটের পতনের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে তিনি শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এসব আইনি জটিলতার ঊর্ধ্বে থেকে টাইগারদের এই জয় এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য প্রাপ্তি হয়ে উঠেছে।

শেয়ার করুন