লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমনীমোহন ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নিবন্ধন সহকারী) আবুল বাছেরের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি কাজের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের দোহাই দিয়ে বাস্তবে অস্তিত্বহীন ৭৪ জন শিশুর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এই ভুয়া নিবন্ধনগুলো ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে তিনি পাশের টুমচর ইউনিয়ন পরিষদে একই পদে কর্মরত রয়েছেন।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে (বিডিআরআইএস) তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের সময় এই জালিয়াতি ধরা পড়ে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিটি ভুয়া শিশুর জন্ম নিবন্ধনের ৪৫ দিনের মধ্যেই তাদের মৃত্যু নিবন্ধনও সম্পন্ন করা হয়েছিল। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর গত ৯ সেপ্টেম্বর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল (যুগ্ম সচিব) মো. লুৎফুর রহমান সংশ্লিষ্ট সাতটি দপ্তরে এ বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
চিঠিতে বাছেরের নিবন্ধন সহকারীর ক্ষমতা প্রত্যাহারসহ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর ২১(১) ও ২১(৩) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮-এর ১৯(৪) ধারা মেনে অন্য কোনো কর্মকর্তাকে নিবন্ধন সহকারীর দায়িত্ব অর্পণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো বিডিআরআইএস-এর শুদ্ধতা নষ্ট করা এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১-এর ৩৪ বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
নিজের কৃতকর্মের দায় স্বীকার করে গত ২৭ আগস্ট আবুল বাছের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেন। তার ভাষ্যমতে, “লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অতিরিক্ত চাপে ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে ৭৪টি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করেছি। উক্ত নিবন্ধনগুলো সঠিক নয়। তাই, উক্ত নিবন্ধনগুলো বাতিল করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।” তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য নিতে তার মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ঘটনার বিষয়ে চর রমনীমোহন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শুভ্রজিত রায় জানিয়েছেন, তিনি বাছেরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি শুনেছেন। বর্তমানে আবুল বাছের টুমচর ইউনিয়নে কর্মরত থাকায় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখছে।
এদিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা জানান, অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে রেজিস্ট্রার জেনারেলের দপ্তরে অভিযুক্তের লিখিত জবাব দেওয়ার কথা ছিল। তবে দপ্তরে তিনি জবাব জমা দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়নি। চিঠি পাওয়ার পর বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। এই ঘটনার অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জন্ম নিবন্ধনের কয়েক দিন বা মাসের মধ্যেই ওই শিশুদের মৃত্যুও দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জবাব দিয়েছেন কি না, তা এখনো আমাদের জানা নেই।






