সাম্প্রদায়িক বিভাজন ভুলে অভিন্ন বাংলাদেশি জাতিসত্তার পরিচয়ে সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ‘বাংলাদেশ মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য ফোরাম’। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। অনুষ্ঠানে বক্তারা ‘ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নাগরিক সমতা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘বিভেদ নয়, ঐক্য’ স্লোগানকে ভিত্তি করে ফোরামটি কাজ করবে। দেশের সব ধর্মের মানুষের সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সুযোগ নিশ্চিত করাই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এছাড়া দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পাশাপাশি পিলখানা ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের স্মৃতির প্রতিও সম্মান জানানো হয়।
ফোরামের পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’ বক্তব্যকে সংগঠনটির দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফোরামের নেতারা স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন নয়; বরং সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ ও অহিংস পন্থায় কাজ করবে। ধর্মীয় পরিচয় যেন কোনো নাগরিকের অধিকার বা মর্যাদার মানদণ্ড না হয়, তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
সংগঠনটির কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, সাম্প্রদায়িক উসকানি, গুজব ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা শনাক্ত করে সঠিক তথ্যের মাধ্যমে তার জবাব দেওয়া হবে। এছাড়া সহিংসতার শিকার ব্যক্তি ও পরিবারকে আইনি, সামাজিক ও মানবিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি সহিংসতা প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি জানানো হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, “আমরা বহু, কিন্তু আমরা এক। আমাদের উপাসনালয় আলাদা হতে পারে, কিন্তু মাতৃভূমি, ভাষা ও ভবিষ্যৎ আমাদের একটাই।” পরিশেষে, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে ঐক্য, সম্প্রীতি ও নাগরিক সমতার পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।






