ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপেকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি মিম বেশ ভাইরাল হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি এই ছবিগুলোতে তাকে সামরিক পোশাকে বা রাজকীয় সিংহাসনে বসে থাকা একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী শাসক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। নেটিজেনরা তাকে ‘ডিক্টেটর এমবাপে’ বা ‘স্বৈরাচার এমবাপে’ হিসেবে অভিহিত করছেন, যা নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছেন ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা।
মিমগুলোতে এমবাপেকে এমনভাবে দেখানো হয়েছে যেন তিনি কেবল মাঠের গোলদাতাই নন, বরং দলের ভেতর-বাইরের সব সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রক। কোচের চাকরি থেকে শুরু করে সতীর্থদের পারফরম্যান্স কিংবা ক্লাব ছাড়ার মতো বিষয়গুলোও নাকি তার ইচ্ছায় নিয়ন্ত্রিত হয়। এমনকি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকেও তার কাছে জবাবদিহি করতে দেখা যায় এমন ব্যঙ্গাত্মক চিত্রও ফুটে উঠেছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ২৭ বছর বয়সী এই তারকা বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
এমবাপের মতে, এই মিমের পেছনে দুটি দিক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এর একটি অংশ মজার, কারণ কিছু মানুষ বিষয়টিকে হালকা মেজাজে দেখছে। কিন্তু আরেকটি অংশ মোটেও মজার নয়। যারা ইতিহাসে মানুষ হত্যা করেছেন কিংবা কোটি কোটি মানুষের জীবনে দুর্ভোগ নিয়ে এসেছেন, তাদের সঙ্গে আমাকে তুলনা করা হচ্ছে। আমি মনে করি না জীবনে আমি কখনো এমন কিছু করেছি।’ তার মতে, এই ধরনের তুলনা রাজনৈতিক ও মানবিক সচেতনতার অভাবের প্রতিফলন।
এই মিমের নেপথ্যে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন নেটিজেনরা। কেউ কেউ ২০২৪ সালের একটি ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করছেন, যেখানে এমবাপের নাম ব্যবহার করে একটি স্যান্ডউইচ তৈরির দায়ে তিনি দোকান মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। আবার অনেকের মতে, পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদে এমবাপের কথিত প্রভাব নিয়ে তৈরি হওয়া গুঞ্জন থেকেই এই মিমের জন্ম হয়েছে।
এদিকে, ফ্রান্স জাতীয় দলের সতীর্থ উসমান দেম্বেলে তাকে ‘মবুতু’ বলে ডাকেন। এই নামটি এসেছে কঙ্গোর সাবেক স্বৈরশাসক মবুতু সেসে সেকোর নাম থেকে, যিনি ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত জাইরে শাসন করেছিলেন। তবে সতীর্থের দেওয়া এই ডাকনামকে এমবাপে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি হাসতে হাসতেই বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘উসমান তো অন্য রকম মানুষ। সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটা খুঁজে পেয়েছে এবং শুধু মজা করছে।’
মাঠের পারফরম্যান্সে অবশ্য এমবাপে বেশ ছন্দে আছেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চলতি মৌসুমে পাঁচ ম্যাচে পাঁচ গোল করেছেন তিনি। সামনে শনিবার রাতে জোসে মোরিনিওর রিয়ালের প্রতিপক্ষ রায়ো ভায়েকানো। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি মাঠের বাইরের এই বিতর্কিত মিম নিয়ে এমবাপের এমন স্পষ্ট অবস্থান এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি ছবিগুলো সেই ব্যঙ্গকেই আরও জমিয়ে তুলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু মিমের হাস্যরসের আড়ালে যে তুলনা করা হচ্ছে, সেটিই মূলত আপত্তির জায়গা এমবাপের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারণ ইতিহাসে এই ধরনের মানুষ কী ভয়াবহ ক্ষতি করেছে, সেটাও আমরা জানি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার করেন এমবাপে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে তিনি বলেন এই মিমের এমন একটা কনোটেটিব অর্থ বা ভাবার্থ আছে যেটা রাজনৈতিক ও মানবিক সচেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকার মতে, মিমটি হয়তো নিছক রসিকতা হিসেবেই তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু এমন রসিকতা মানুষের ইতিহাস ও মানবিকতার প্রতি সচেতনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।






