কাঁঠালের ভরা মৌসুম মে থেকে জুলাই পর্যন্ত হলেও, মৌসুম শেষ হওয়ার সাথে সাথে এর চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। গাজীপুরের শ্রীপুরের স্থানীয় বাজারগুলোতে এখন আর কাঁঠালের সেই চিরচেনা স্তূপ নেই। জৈনাবাজার, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, নয়নপুর, বরমী ও মাওনা চৌরাস্তার মতো বড় বাজারগুলোতেও এখন কাঁঠালের দেখা মেলা ভার। হাতেগোনা যে দু-একটি কাঁঠাল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, তার আকাশচুম্বী দাম দেখে সাধারণ ক্রেতারা রীতিমতো অবাক হচ্ছেন।
বুধবার শ্রীপুরের বরমী বাজারে সরেজমিনে দেখা যায়, পাইকার বিল্লাল হোসেন আটটি কাঁঠাল নিয়ে বিক্রির জন্য বসেছেন। আকারভেদে প্রতিটি কাঁঠাল ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। বিল্লাল হোসেন জানান, মৌসুমের শেষ দিকে গাছে থাকা কাঁঠালগুলো সংগ্রহ করা বেশ কষ্টসাধ্য। তবে এই কাঁঠালগুলোর স্বাদ ও গুণগত মান বেশি হওয়ায় ক্রেতারা বাড়তি দাম দিয়েই তা কিনছেন।
ধানমহল এলাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী ছোট-বড় ১৫টি কাঁঠাল নিয়ে বসেছিলেন। তিনি জানান, গ্রামে গ্রামে ঘুরে সংগ্রহ করা এসব কাঁঠালের দাম ২০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মৌসুমের শুরুতে যে কাঁঠাল ১০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। বড় একটি কাঁঠাল দেখিয়ে তিনি বলেন, এর কোষ বড়, মিষ্টি বেশি এবং ঘ্রাণও চমৎকার, তাই ১ হাজার টাকা দামেও এটি বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে কাঁঠালের সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ব্যবসায়ী ইসলাম উদ্দিন জানান, সব জাতের কাঁঠাল একই সময়ে পাকে না। কিছু গাছে আগে ফল আসে, আবার কিছু গাছে মৌসুমের শেষ দিকে কাঁঠাল ধরে। তিনি পরামর্শ দেন, কৃষকরা যদি জাত বুঝে কাঁঠালগাছ রোপণ করতে পারেন, তবে সারা বছরই ভালো লাভ করা সম্ভব। বিশেষ করে আগাম ও শেষ মৌসুমের কাঁঠালের চাহিদা বাজারে সবসময়ই বেশি থাকে।
জৈনাবাজারের পাইকার সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে স্থানীয় বাজারে কাঁঠাল খুবই কম। শৌখিন ক্রেতারা বেশি দাম দিয়ে এগুলো কিনে নিচ্ছেন। এছাড়া মৌসুমের শেষ দিকে পাওয়া এসব কাঁঠাল কিনে তারা ঢাকার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় নিয়ে যান, যেখানে এগুলোর বাড়তি চাহিদা থাকায় ভালো দাম পাওয়া যায়।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ইতিমধ্যে কিছু আগাম জাতের কাঁঠাল উদ্ভাবন করেছে, যার চারা নার্সারিতে পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে কিছু ১২ মাসি জাতও রয়েছে। জাত নির্বাচন করে চারা রোপণ করলে কৃষকরা লাভবান হবেন। তিনি আরও জানান, শ্রীপুরে এ বছর কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ মেট্রিক টন, যা গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার সমান এবং তা অর্জিত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘এক হাজার টাকার এই কাডল (কাঁঠাল) সিজনে দাম ১০ টাকাও না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁঠালের মৌসুমে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত যে ফলটি গ্রামের বাজারে ১০ টাকাতেও বিক্রি হয়, মৌসুম শেষ হতেই সেই কাঁঠালই হয়ে উঠেছে বেশ দামি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কাডলগুলার স্বাদও বেশি, কিনেও মানুষ বেশি দামে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোথাও দু-একটি কাঁঠাল পাওয়া গেলেও দাম শুনে চমকে উঠছেন ক্রেতারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিক্রেতারা জানালেন, মৌসুমের সময়ের তুলনায় এখন কাঁঠাল সংগ্রহ করাই কঠিন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত বছরেও প্রায় একই লক্ষ্যমাত্রা ছিল।






