সংক্ষিপ্ত সংবাদ শিরোনাম
- ডেঙ্গু পরিস্থিতি: টানা তৃতীয় দিনে হাসপাতালে ভর্তির নতুন রেকর্ড, মৃত্যু ৪ জন।
- চা শ্রমিকদের আন্দোলন: ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ।
- ক্রিকেট আপডেট: বোলিং অনুশীলনে ফিরেছেন নাহিদ, মাঠে ফেরার অপেক্ষায়।
গত শনিবার অটোয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি অত্যন্ত কঠোর ও আক্রমণাত্মক ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কেন্দ্রীয় ব্যাংকার হিসেবে পরিচিত কার্নিকে সাধারণত বাজার শান্ত রাখার কৌশলে অভ্যস্ত দেখা গেলেও, এদিন তিনি ছিলেন বেশ দৃঢ়। তিনি কানাডার জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, গত বসন্তেই তিনি সতর্ক করেছিলেন যে আমেরিকা কানাডাকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে নিজেদের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কার্নির মতে, কানাডা বর্তমানে এক ধরনের আক্রমণের শিকার।
ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার সমমূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এর ফলে কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্কের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতির জবাবে কানাডা সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যের ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।
কানাডার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই বাণিজ্যযুদ্ধ বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। কার্নির এই লড়াকু রাজনৈতিক অবস্থানের পেছনে দেশটির ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষের জাতীয়তাবাদী আবেগ কাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, কানাডার মানুষ এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো ধরনের নতি স্বীকার করতে নারাজ, এমনকি তা দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হলেও। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোসেফ স্টেইনবার্গ এমনটাই মন্তব্য করেছেন।
ব্যক্তিগত কর্মপদ্ধতির ক্ষেত্রে কার্নি তার কঠোরতা বজায় রেখেছেন। ২০১৩ সালে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট বিতর্ক সামলানোর অভিজ্ঞতা তাকে রাজনৈতিক লড়াইয়ে দক্ষ করে তুলেছে। তার ঘনিষ্ঠরা জানান, তিনি মন্ত্রীদের কাছ থেকে ফাইলের খুঁটিনাটি তথ্য জানতে পছন্দ করেন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে অভ্যস্ত। ট্রাম্পের আগ্রাসনের মুখে তিনি তার পূর্বসূরি জাস্টিন ট্রুডোর কার্বন ও জলবায়ু নীতি থেকেও সরে এসে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছেন।
বাণিজ্যযুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে বিবিসি ও রয়্যাল ব্যাংক অব কানাডার তথ্য অনুযায়ী, অন্টারিও প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে গাড়ির যন্ত্রাংশ ও সংযোজন কারখানায় উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে এবং কর্মী ছাঁটাই হয়েছে। কুইবেক প্রদেশের ধাতব রপ্তানিও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ব্যাংক অব কানাডার তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটির উৎপাদন খাতে প্রায় ৫৫ হাজার কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ট্রেভর টোম্বের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, মার্কিন শুল্ক দীর্ঘস্থায়ী হলে কানাডায় প্রায় ৯০ হাজার মানুষ কর্মহীন হতে পারেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির আকার অনেক বড় হওয়ায় কানাডার পাল্টা শুল্কের প্রভাব সেখানে তুলনামূলক কম। কানাডা এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত, আসবাবপত্র, প্রসাধন সামগ্রী ও টয়লেট পেপারের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে। বিশেষ করে ওহাইও, ইলিনয় ও পেনসিলভানিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোকে লক্ষ্য করে এই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সাবেক মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট জোয়েলিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত কলামে উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি যুক্তরাষ্ট্রের নিজের স্বার্থের জন্যই ক্ষতিকর। তিনি মনে করেন, উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—একসঙ্গে কাজ করলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের দিক থেকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকতে পারত। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ৯০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অধিকাংশ আমেরিকান এখনো ইউএসএমসিএ চুক্তিকে দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক মনে করেন। তাই এই ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব নষ্ট করা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডেঙ্গু: টানা তৃতীয় দিন ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড, মৃত্যু ৪। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বোলিং অনুশীলনে ফিরলেন নাহিদ, কবে ফিরবেন খেলায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর কানাডার মানুষকে অনিশ্চয়তা ও সংঘাতের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে তিনি বলেন, ‘গত বসন্তে আমি সতর্ক করেছিলাম যে, আমেরিকা আমাদের ভেঙে টুকরো টুকরো করতে চায়, যাতে তারা আমাদের ওপর মালিকানা খাটাতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা কখনোই হতে দেওয়া হবে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা আজ সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে সংবাদ সম্মেলনের এই পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে এক সাংবাদিক কার্নিকে প্রশ্ন করেন, তার এমন গম্ভীর ও যুদ্ধংদেহী সুরের কারণ কী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যখন কেউ আপনাকে আক্রমণ করে, তখন আপনিও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন।






