মিয়ানমারের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্যে চলমান সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরে ‘ব্লাডশেড অন দ্য বর্ডার’ শিরোনামে একটি নতুন তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে আল জাজিরা। গোপন নথি, এক্সক্লুসিভ ভিডিও এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সামরিক জুন্টা ও আরাকান আর্মির মধ্যকার গৃহযুদ্ধে রোহিঙ্গাদের চরম দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠেছে। তথ্যচিত্রটি আল জাজিরা ইনভেস্টিগেটের ‘মিয়ানমার এক্সপোজড’ সিরিজের একটি অংশ, যা ২০২১ সালের অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশটির অজানা সত্যগুলো সামনে নিয়ে এসেছে।
রাখাইনের এই সংঘাতে মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী উভয় পক্ষেরই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালে গৃহযুদ্ধ তীব্র হওয়ার পর থেকে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারহীন এই অঞ্চল থেকে দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তথ্যচিত্রে দেখানো হয়েছে, ২০১৭ সালের জাতিগত নিধনের মতোই বর্তমানেও রোহিঙ্গারা ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা সেতেরা বেগম জানান, বিদ্রোহীরা গ্রামে ঢুকে পরিখা ও চেকপোস্ট তৈরি করলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এছাড়া ১৪ বছর বয়সী আয়শা নামের এক কিশোরী তাদের ওপর চালানো অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছে।
‘মিয়ানমার উইটনেস’-এর ফরেনসিক গবেষকদের তথ্য ও নাগরিক সাংবাদিকদের ভিডিওর ভিত্তিতে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, আরাকান আর্মি রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে এই জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো মানবপাচারের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের পথ বেছে নিয়েছে, যেখানে শিশু ও নারীদের জোরপূর্বক নৌকায় তুলে যৌন নিপীড়নের মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে।
অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে আরাকান আর্মি কোনো উত্তর বা সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী এক লিখিত বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে তারা নানা ধরনের নিষ্ঠুরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো সদুত্তর দেয়নি।
বর্তমানে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ভবিষ্যতের কোনো আলোর দিশা না পেয়ে তরুণ প্রজন্ম যদি হতাশ হয়ে পড়ে, তবে তাদের কাছ থেকে শান্ত থাকার আশা করা কঠিন। সীমান্ত এলাকার অস্থিতিশীলতা নিরসনে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ওপরই জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা হয়েছে যে, ২০১৭ সালে সামরিক বাহিনীর জাতিগত নিধনের সময়কার বর্বরতার মতোই বর্তমান গৃহযুদ্ধেও উভয় পক্ষ থেকে রোহিঙ্গারা চরম নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: “তারা রোহিঙ্গা জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা যদি এসব হত্যাকাণ্ড এবং সুনির্দিষ্ট স্থানগুলোর প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারি, তবে বিশ্বকে দেখাতে পারব আসলে সেখানে কী ঘটছে”—মিয়ানমারের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্য থেকে গোপনে ভিডিও ধারণ করা এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাগরিক সাংবাদিকের এই আর্তনাদই বলে দেয় সেখানে চলমান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই ডকুমেন্টারিতে উন্মোচিত হয়েছে কীভাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের হত্যা করা হচ্ছে, তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে মানবপাচার করা হচ্ছে এবং একটি জাতিগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের ব্যবহার, শোষণ, নির্যাতন ও লাভের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে ঘরছাড়া করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এর আগে তাদের নেতারা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার কথা অস্বীকার করেছেন।






