সংক্ষিপ্ত সংবাদ ও সাম্প্রতিক ঘটনা
- ছিনতাইকারীর টানে মৃত্যু: চিকিৎসার জন্য ভোরে ঢাকায় পৌঁছানো রনজিনার রাতে ফেরার পরিকল্পনা ছিল।
- সিআইপি সুবিধা: কারা যোগ্য এবং কারা অযোগ্য তার বিস্তারিত নীতিমালা।
- ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা: ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ৭টি বিশেষ নির্দেশনা।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ: নেপাল ও তিব্বতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮২ জনে দাঁড়িয়েছে।
- আইনি পদক্ষেপ: খেলনা বন্দুক নিয়ে ভিডিও তৈরির দায়ে নারায়ণগঞ্জের দুই তরুণ কারাগারে।
- অর্থনৈতিক সংকট: নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় ইরানি মুদ্রার মান কমে প্রতি ডলার ২০ লাখ রিয়ালে ঠেকেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ছয় মাস পার হওয়ার পর ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে, যারা তেহরানকে সহায়তা করবে, তাদেরও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে একঘরে করা হবে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সরাসরি বেইজিংকে এই নিষেধাজ্ঞার কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে চীন এখন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে বৈধ বলে দাবি করছে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় অটল থাকার বার্তা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন, কারণ তেহরানের তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা চীন। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের একটি বড় অংশ চীনা মুদ্রা ইউয়ানে সম্পন্ন হয়, যা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়। যদিও যুদ্ধের আগে ইরান প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল রপ্তানি করত, বর্তমানে তা কমেছে, তবুও এই বাণিজ্য দেশটির আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। সাংহাইয়ের ফুদান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সান দেগাং জানান, সমুদ্রপথ ছাড়াও মধ্য এশিয়ার সড়ক ও রেলপথ ব্যবহার করে ইরানি তেল চীনে পৌঁছানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনের ওপর চাপ বাড়ছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা চীনা ব্যাংকগুলোও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত বড় কোনো চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তবে কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করা হয়েছে। অধ্যাপক সান দেগাং মনে করেন, চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে বেইজিংয়ের কাছ থেকে সহযোগিতা আশা করা অবাস্তব।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং এতে তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক চং জা ইয়ান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে নতি স্বীকার করার কোনো কারণ চীনের নেই। বরং বেইজিং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী। ডিলান লোর মতো বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজেদের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চীনের নিজস্ব কৌশল ও সক্ষমতা রয়েছে, যা তারা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়ে অতীতে প্রমাণ করেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষক নিনো লেজহাভা মনে করেন, ইরানকে চাপে ফেলতে তেলই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তবে চীনকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের প্রণোদনা দিতে হতে পারে। জাপানের সোকার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক লিম তাই ওয়েই-এর মতে, চীনের যদি লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়, কেবল তখনই তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার কথা ভাবতে পারে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ায় চীন নিজেও অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। গত অক্টোবরে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর উত্তেজনা কিছুটা কমলেও তা স্থায়ী হয়নি। ইরানকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন পরিকল্পনা সফল হবে কি না, তা এখন অনেকাংশেই বেইজিংয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আপাতত চীন তাদের অবস্থান থেকে সরার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। এদিকে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আজ ইরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা আশ্বাস সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের সম্ভাবনার মধ্যে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দশকের পর দশক ধরে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থেকেও ইরান আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার জটিল পথ ব্যবহার করে বাণিজ্য চালিয়ে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে এসব লেনদেনের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: লেজহাভার মতে, ইরানের জন্য বাণিজ্যের পথ খোলা রাখা এবং বিকল্প অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা চালু রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের কার্যকারিতা অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চীনের ভূমিকা যে গুরুত্বপূর্ণ, তা ওয়াশিংটনও জানে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঢাকার যানজট নিরসনে যে ৭ নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
- প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খেলনা বন্দুক হাতে ভিডিও, নারায়ণগঞ্জের সেই ২ তরুণ কারাগারে।






