মেক্সিকো উপসাগরের পর এবার লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক নির্বাহী আদেশে তিনি লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ওভাল অফিসে মানচিত্র পরিবেষ্টিত অবস্থায় ট্রাম্প জানান, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। তার আশেপাশে থাকা মানচিত্রে ‘মেকিং দ্য গ্রেট লেকস ইভেন গ্রেটার’ শিরোনামের স্লোগান দেখা গেছে, যা তার নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ট্রাম্পের দাবি, হ্রদটির গভীরতম অংশ এবং পানির বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে অবস্থিত, তাই এই নাম পরিবর্তন যৌক্তিক। তিনি আরও বলেন, ‘লেক অব আমেরিকা’ নামটি নিয়ে তিনি অনেকদিন ধরেই পরিকল্পনা করছিলেন। একইসঙ্গে তিনি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভৌগোলিক নামের ক্ষেত্রে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিলেও অন্য দেশগুলোকে তা মানতে বাধ্য করতে পারে না।
নাম পরিবর্তনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া
- দায়িত্বপ্রাপ্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাগ বারগাম ও ভৌগোলিক নামবিষয়ক বোর্ড।
- সময়সীমা: আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নাম পরিবর্তনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
- কার্যকারিতা: সরকারি মানচিত্র, চুক্তি ও নথিপত্রে ‘লেক অন্টারিও’র পরিবর্তে ‘লেক আমেরিকা’ ব্যবহার করতে হবে।
- বর্তমান অবস্থা: যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, তাদের ইলেকট্রনিক নথিতে নাম পরিবর্তন ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।
কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বিরোধের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, কানাডীয় প্রতিনিধি ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্কের সঙ্গে বর্তমানে কোনো কার্যকর যোগাযোগ নেই।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তার দেশ এই নাম পরিবর্তন কখনোই মেনে নেবে না। কার্নি বলেন, ‘লেক অন্টারিও’ নামটি ৪০০ বছরেরও বেশি পুরোনো এবং এটি ওয়েনডাট ভাষার ‘ওন্টারিইও’ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘হ্রদটি সুন্দর, হ্রদটি বড়’। কানাডা চিরকাল এটিকে লেক অন্টারিও নামেই ডাকবে। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডও একই সুরে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
এর আগে গত বছর মেক্সিকো উপসাগরের নাম ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় মেক্সিকোর তীব্র আপত্তির মুখে গুগল তাদের মানচিত্রে দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন নাম প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছিল। এবারও কানাডার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির জেরে ট্রাম্প প্রশাসন এমন কঠোর অবস্থান নিল।
উল্লেখ্য, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে নেপাল ও তিব্বতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নেপালের বন্যায় ভেসে আসা ৭টি মরদেহ ভারতে পাওয়া গেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিল, ইরানের অর্থনৈতিক সংকট এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ইরান সফর নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গ্যাস সংকটে বাড়ছে বৈদ্যুতিক চুলার বিক্রি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আত্মগোপনে থাকা চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী চট্টগ্রামে পরিবারসহ আটক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেপালের বন্যায় ৭ মরদেহ ভেসে এলো ভারতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন পণ্যে ১৫-৫০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটি ট্রাম্পের নির্বাচনী স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন (মাগা)’-এর সঙ্গে শব্দের মিল রেখে লেখা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘(এখন) আমাদের একটি উপসাগর আছে এবং একটি লেকও আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভৌগোলিক স্থান ও স্থাপনার নাম কীভাবে উল্লেখ করবে, সে বিষয়ে ট্রাম্পের ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে।






