অভিনয় জগতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তানজিম সাইয়ারা তটিনী। মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘পথহারা মন’ নাটকে অভিনয়ের জন্য তিনি বর্তমানে বেশ প্রশংসিত হচ্ছেন। নাটকটি বর্তমানে অ্যামাজন প্রাইম প্ল্যাটফর্মেও দেখা যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার ও কাজের ধরন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন এই অভিনেত্রী।
নিজের ব্যস্ততা সম্পর্কে তটিনী জানান, শুটিংয়ের কাজে নিয়মিত থাকতে হয় তাকে। সম্প্রতি ‘আমার হয়ে থেকো’ (নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে) নাটকের শুটিং শেষ করে ভোরবেলা বাসায় ফিরেছেন তিনি। কাজের চাপে অনেক সময় ব্যক্তিগত সময় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে তার জন্য।
দর্শক কোন ধরনের কাজ পছন্দ করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তটিনী বলেন, তার রোমান্টিক ঘরানার কাজগুলোই দর্শক বেশি পছন্দ করেন। তবে ‘তোমাদের গল্প’ প্রচারের পর থেকে তার চটপটে চরিত্রগুলোও দর্শকদের নজর কেড়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কিছুটা শান্ত স্বভাবের হলেও কাছের মানুষদের সঙ্গে বেশ চঞ্চল থাকেন বলে জানান এই অভিনেত্রী।
‘পথহারা মন’ নাটকটির জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে তটিনী বলেন, এর মূল কারণ হলো গল্প। দর্শক এই গল্পের সঙ্গে নিজেদের খুব সহজেই মেলাতে পেরেছেন। এছাড়া দীর্ঘ বিরতির পর জাহিদ হাসানের ফিকশনে ফেরা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে পরিচালক মোস্তফা কামাল রাজের নির্মাণশৈলী এবং সহজভাবে গল্প উপস্থাপনের ক্ষমতাকে তিনি এই নাটকের সাফল্যের প্রধান ‘ম্যাজিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ধারাবাহিক নাটকে নিয়মিত হওয়া প্রসঙ্গে তটিনী বলেন, তার ক্যারিয়ারের শুরুটা ধারাবাহিক দিয়েই হয়েছিল। তবে এখন বড় পরিসরে কাজ করার ক্ষেত্রে কিছুটা ভয় কাজ করে। মোস্তফা কামাল রাজের ওপর আস্থা থাকায় ‘ফিরে আসার গল্প’ ধারাবাহিকে কাজ করতে পেরে তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন। সিনেমাওয়ালা প্ল্যাটফর্মের বিশাল দর্শকগোষ্ঠীর কাছে নিজের অভিনয় পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পাওয়াটা তার জন্য অনেক বড় একটি প্রাপ্তি।
জুটি প্রথা নিয়ে তটিনী বলেন, জুটি আসলে অনেকটা ভাগ্যের বিষয়। তবে শুধু জুটির ওপর নির্ভর না করে গল্পের মান ও অভিনয়ের সততাকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। পার্থ শেখের সঙ্গে জুটি হওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, দর্শক তাদের পছন্দ করলেও, আরও শক্তিশালী গল্পের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। ভিউয়ের চেয়ে কাজের মান ও চরিত্রই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের অভিনয় ক্যারিয়ারের প্রিয় পাঁচটি চরিত্রের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি জানান, ‘সুহাসিনী’র আলো, ‘তোমাদের গল্প’র শালু, ‘হৃদয়ের গভীরে’র রাহা, ‘সময় সব জানে’র ইরা এবং ‘কাজল চোখের মেয়ে’র কাজল চরিত্রগুলো তার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি। প্রতিটি চরিত্রই তাকে অভিনয়শিল্পী হিসেবে নতুন কিছু শেখার সুযোগ করে দিয়েছে।
বড় পর্দায় কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে তটিনী বলেন, ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে অবশ্যই তিনি ভেবে দেখবেন। এর আগেও বড় পর্দায় কাজের প্রস্তাব পেয়েছেন, কিন্তু কোনোটিই তাকে পুরোপুরি আশ্বস্ত করতে পারেনি। তিনি বলেন, বড় পর্দায় ঝুঁকি বেশি। দর্শক তার কাছে যে প্রত্যাশা তৈরি করেছেন, তা পূরণ করতে চান তিনি। এমন কোনো কাজ করতে চান না, যা দেখে দর্শক হতাশ হবেন। তার ভাষ্য, তিনি চান না মানুষ আশাহত হোক, বরং এমন একটি কাজ করতে চান যার জন্য দর্শক অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চারটায় ‘আমার হয়ে থেকো’ (নাম বদল হতে পারে) শুটিং শেষে বাসায় ফিরেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই ফোনের নেট বন্ধ করে ঘুমাচ্ছিলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিগত এক বছর ধরে তোমাদের গল্প প্রচারের পর থেকে মানুষ আমাকে একটু চটপটে চরিত্রে দেখতে পছন্দ করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার আগে মানুষের ধারণা ছিল যে আমি চুপচাপ, শান্ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে বেশির ভাগ মানুষ আমাকে চুপচাপ হিসেবেই চেনে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরিবারের কাছে আমি কী, তা অবশ্য পরিবারই ভালো বলতে পারবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আপনার অভিনীত ‘পথহারা মন মানুষ’ কেন এত পছন্দ করল।






