সংক্ষেপে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি
- সৌদি আরবের ভূমিকা: হুতিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে রিয়াদ, যাতে ইয়েমেনি সেনাও অংশ নিতে পারে।
- সহিংসতা ও হামলা: হুতিরা সৌদি আরবের রাজধানীতে তেল অবকাঠামোয় নতুন করে হামলার দাবি করেছে।
- কৌশলগত ক্ষতি: লোহিত সাগরের বাব-আল মান্দাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হুতিদের হুমকির মুখে পড়েছে।
- তাইজের সংকট: সরকারের নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ তাইজ শহরকে কার্যত ঘিরে ফেলেছে বিদ্রোহীরা।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে পুরো ভূখণ্ড পুনর্দখল এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি হুতিদের ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘আধা-সামরিক বাহিনী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সশস্ত্র বাহিনীকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। তার দাবি, যতক্ষণ না পুরো দেশ হুতিদের হাত থেকে মুক্ত হচ্ছে, ততক্ষণ এই অভিযান চলমান থাকবে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির বর্তমান নাজুক বাস্তবতায় এমন উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। নীতি নির্ধারকদের ইঙ্গিত ছাড়া আখতারুজ্জামানের সঙ্গে এমন জুলুম সম্ভব নয়: পরওয়ার। এ মাসের শেষ নাগাদ কিয়েভ-মস্কো-ওয়াশিংটন বৈঠক। ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ নিরাপত্তার ঢাল নাকি নজরদারির নতুন দেয়াল।
অভিযান ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই হুতিরা সরকার-নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়। বিশেষ করে এডেনের সঙ্গে সড়কপথে যুক্ত তাইজ শহরকে তারা কার্যত বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। স্থানীয় পুলিশ ও সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হুতিরা আল-সাফিয়া এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রধান সড়ক ও পুলিশ স্টেশন দখল করেছে। এই লড়াইয়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। যদিও তাইজ কাগজে-কলমে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এটি বিদ্রোহীদের অবরোধের শিকার এবং গৃহযুদ্ধের অন্যতম প্রধান রণক্ষেত্র হয়ে আছে। প্রথম আলো- আগুন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার: মতিউর রহমান। এর মধ্যে রয়েছে ইরান-ওমান সংলগ্ন হরমুজ প্রণালির অন্যতম প্রধান বিকল্প নৌপথ হিসেবে বিবেচিত বাব-আল মান্দাব। তাইজের আশপাশে গত কয়েকদিন তীব্র লড়াই চালিয়ে শহরটির সঙ্গে এডেনের প্রধান সড়কের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুতিরা। ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর তিনটি সূত্রও ওই এলাকা ও সরবরাহপথ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং ওই এলাকায় লড়াই এখনও চলছে।
চ্যাথাম হাউসের গবেষক ফারেয়া আল-মুসলিমি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, হুতিরা যেভাবে তাইজকে এডেন থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে, তাতে বর্তমান সামরিক অভিযানকে তিনি ‘অর্থহীন’ বলে মনে করেন। ইয়েমেন সরকার সম্প্রতি সানা, সাদা ও তাইজের কাছে হুতি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করলেও, আকাশপথে তাদের সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। ধারণা করা হচ্ছে, এসব হামলায় মূলত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের যুদ্ধবিমান ব্যবহৃত হয়েছে। ২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটি চরম মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং ২০১৫ সাল থেকে সৌদি জোট সেখানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন মোড় নিয়েছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে অবরোধ এবং সৌদি ভূখণ্ডে নিয়মিত হামলার ঘটনায় হুতিদের শক্তি ও তৎপরতা বেড়েই চলেছে। সব মিলিয়ে, হুতিদের দমনে ইয়েমেন সরকারের নতুন এই সামরিক উদ্যোগ কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রবল সংশয় রয়েই গেছে। রাবিতে ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, প্রতিনিধিসহ আহত ১০।






