
চলচ্চিত্র পরিচালক ওয়াকিল আহমেদ তার ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সালমান শাহকে নিয়ে দুটি সিনেমার পরিকল্পনা করেছিলেন। সিনেমা দুটি হলো ‘অধিকার চাই’ এবং ‘ভুলোনা আমায়’। এই প্রজেক্টগুলোর জন্য সালমান শাহ ও শাবনূরকে জুটি হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছিল। প্রতিটি সিনেমার জন্য সালমানকে ৭ লাখ টাকা করে মোট ১৪ লাখ টাকার চুক্তি করা হয় এবং ওয়াকিল আহমেদ তাকে সাইনিং মানি হিসেবে সাড়ে তিন লাখ টাকা করে প্রদান করেছিলেন। সিনেমাগুলোর চিত্রনাট্য লিখেছিলেন আখতার শরীফ হুসাইন। সালমান শাহ গল্পটি পছন্দ করেছিলেন, তবে শুটিংয়ের সময় পানির নিচে কিছু দৃশ্য ধারণের বিষয়ে তিনি বেশ কৌতূহলী ছিলেন এবং বারবার নিশ্চিত হতে চাইতেন দৃশ্যগুলো থাকবে কি না।
ঘটনাটি ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বরের। ওইদিন সকালে সালমান শাহ ওয়াকিল আহমেদকে ফোন করে জানান যে, তার কাছে ৫০০ ইন্ডিয়ান রুপি আছে। তিনি অনুরোধ করেন, ওয়াকিল আহমেদ যেন এই টাকাটা নিয়ে আজমীর শরীফে খাজা বাবার দরগায় দিয়ে আসেন। ওয়াকিল আহমেদ তখন নিয়মিত আজমীর শরীফে যেতেন, তাই তিনি রাজি হন। বিকেলে শহিদুল ইসলাম খোকনের বাড়িতে হাসমতের প্রযোজনায় ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন ওয়াকিল আহমেদ সালমানের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি সালমানকে খুব শান্তভাবে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেন। ঘুম থেকে ওঠার পর সালমান তাকে সেই ৫০০ রুপি দেন।
টাকা নেওয়ার সময় ওয়াকিল আহমেদ কৌতূহলবশত সালমানকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি কোনো বিশেষ নিয়ত বা প্রার্থনা করেছেন কি না। জবাবে সালমান শাহ বলেছিলেন, তার আর কোনো চাওয়া নেই, তিনি কেবল শান্তিতে মরতে চান। এই কথায় ওয়াকিল আহমেদ কিছুটা অবাক হয়েছিলেন এবং তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন যে, তাদের অনেক কাজ বাকি। সালমান তখন হাসিমুখে বলেছিলেন, কাজ তো করতেই হবে। বিদায় নেওয়ার সময় তারা একে অপরের জন্য শুভকামনা জানান।
পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে ওয়াকিল আহমেদ তার দুই প্রযোজককে নিয়ে বাসে করে ইন্ডিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। বাসের ভেতর রাত সাড়ে তিনটার দিকে হঠাৎ এক প্রযোজক আতঙ্কিত হয়ে জেগে ওঠেন এবং জানান যে, তিনি স্বপ্ন দেখেছেন সালমান শাহ মারা গেছেন। ওয়াকিল আহমেদ তখন তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং বলেন যে, এটি হয়তো সিনেমার টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণে হচ্ছে। পরের দিন বিকেলে কলকাতার হিলটন হোটেলে পৌঁছানোর পর নিরা ফিল্মসের কামরুল সাহেবের ছেলে রবির কাছ থেকে তারা সালমান শাহর মৃত্যুর দুঃসংবাদটি পান।
সংবাদটি শোনার পর ওয়াকিল আহমেদ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। তিনি সেই ৫০০ রুপি আজমীর শরীফে গিয়ে রেখে আসেন। সালমানের মৃত্যুর পর ‘অধিকার চাই’ সিনেমায় সানিকে এবং ‘ভুলোনা আমায়’ সিনেমায় অমিত হাসানকে নেওয়া হয়। বাপ্পারাজ ও শাবনূরসহ অন্যান্যরা আগের মতোই বহাল ছিলেন। সিনেমাগুলো মুক্তি পাওয়ার পর দর্শক মহলে প্রশংসিত হলেও ওয়াকিল আহমেদের মনে আজও এক গভীর আক্ষেপ রয়ে গেছে। তিনি মনে করেন, সালমান শাহ বেঁচে থাকলে সিনেমাগুলো আরও বাস্তবসম্মত ও প্রাণবন্ত হতো।
ওয়াকিল আহমেদের মতে, সালমান শাহর সঙ্গে তার রসায়ন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু সেই সুযোগ আর হয়নি। সালমানের কাছ থেকে নেওয়া সাইনিং মানি বা অগ্রিম টাকা তিনি কখনোই ফেরত চাননি। তিনি মনে করেন, সালমান শাহ হয়তো নিজের ভেতরের কোনো এক দুঃখকে জয় করতে পারেননি, যার ফলে তিনি হেরে গেছেন। তবে শারীরিকভাবে না থাকলেও সালমান শাহ তার কাজের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ওয়াকিল আহমেদ বলেন, সালমান শাহর সেই শেষ মুহূর্তের আচরণ এবং তার বিড়বিড় করে কিছু বলে ছবি ছিঁড়ে ফেলার বিষয়টি আজও তাকে ভাবায়। তিনি সেই ছবিটির বিষয়ে কখনো বিস্তারিত জানতে চাননি। সালমানের চলে যাওয়াটা কেবল চলচ্চিত্রের জন্য নয়, ব্যক্তিগতভাবে তার জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি তখন ‘প্রেমের অহংকার’ সিনেমা রিলিজ করেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সিনেমাটি ভালোই হয়েছে, সবার কাছে ভালোই লেগেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আশা প্রোডাকশনসের মনির ভাইকে ‘মনির ভাই’ বলে ডাকি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই দুটো সিনেমার জন্য আমরা নায়ক হিসেবে নির্বাচন করি সালমান শাহকে আর নায়িকা শাবনূর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সিনেমার গল্প শুরু করেছি, লেখালেখি করছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উনি আমার প্রথম সিনেমা ‘সৎ মানুষ’ লিখেছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সালমান শাহকে কাস্ট করলাম, সাইনও করানো হলো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু তার একটা ব্যক্তিগত দুর্বলতা ছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০