জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের চরম ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়ে তিন গুণ বেশি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ৮২৪ জন রোগী ভর্তি ছিলেন এবং বৃহস্পতিবার এই সংখ্যা ছিল ৭৫৮ জন। প্রতিদিন গড়ে ৭৫০ জনের বেশি মানুষ এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যার ফলে শয্যা না পেয়ে রোগীরা মেঝে ও বারান্দায় মাদুর বিছিয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। মেডিসিন ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ রোগীদের পাশেই ডেঙ্গু আক্রান্তদের রাখা হয়েছে। অনেক ডেঙ্গু রোগীর জন্য মশারির কোনো ব্যবস্থাও নেই। শিশু ওয়ার্ডের চিত্র আরও ভয়াবহ; সেখানে একটি শয্যায় তিনজন করে শিশুকে গাদাগাদি করে থাকতে দেখা গেছে। নূরজাহান নামের এক শিশুর মা জানান, তিন দিন হাসপাতালে থেকেও তিনি কোনো শয্যা পাননি। একইভাবে মো. নিরব নামের এক ডেঙ্গু রোগী জানান, ভর্তি হওয়ার পর তাকে সরাসরি মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে, যেখানে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই।
অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে হাসপাতালের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালের ভেতরে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে বারান্দায় মাদুর পেতে চিকিৎসা নেওয়ায় রোগী ও স্বজনরা সীমাহীন কষ্ট ভোগ করছেন।
এই সংকটের বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সোহানুর রহমান বলেন, রোগীর প্রচণ্ড চাপের কারণে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। আবাসন সংকটের কারণে সবাইকে শয্যা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে নতুন ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে এই সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।





