সাতক্ষীরা সদর থানা হাজতের ভেতরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে ডিউটি অফিসার পিংকি রায় ও সহকারী ডিউটি অফিসার এনিভা খাতুনকেও বদলি করা হয়েছে। সোমবার সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ আগস্ট, যখন পুলিশ সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আকতার হোসেন, কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাস্টার শফিকুল ইসলাম, জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন এবং পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান শোভনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারের পর থানার ভেতরে ওসির বিশেষ অনুমতি নিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী হাজতের সামনে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে জেলা তাঁতী লীগের এক নেতাকে হাজতের ভেতর রাজনৈতিক স্লোগান দিতেও দেখা গেছে।
থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ১৫ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আলমগীর কবিরসহ কয়েকজন নেতা থানায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় আর্জেন্টিনার জার্সি পরিহিত এক ব্যক্তি থানায় প্রবেশ করে ওসির অনুমতি সাপেক্ষে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেন এবং ভিডিও ধারণ করেন। পুরো বিষয়টি থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় সংরক্ষিত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওই কর্মকর্তা।
স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, ওসি মাসুদুর রহমানের ভূমিকার কারণে রাজনৈতিক স্বার্থে পাল্টাপাল্টি মামলা দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। এছাড়া তার এমন আচরণের ফলে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পিসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীদের ওপর চিহ্নিত ব্যক্তিরা হামলার সাহস পেয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদল ওসির স্থায়ী অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
তবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকার জানান, ভিডিও ধারণের বিষয়টি তাদের জানা নেই। তিনি দাবি করেন, ওসিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার বদলি ও প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ। এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রত্যাহার হওয়া ওসি মাসুদুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।






