বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ও লুটপাটের পথ প্রশস্ত করতেই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ক্যাব যুব সংসদ আয়োজিত এক গণসংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও শৈলকুপা পৌরসভা এলাকায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাব্যতা যাচাই ও লাইফলাইন গ্রাহক সমীক্ষা: ফলাফল ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। রাষ্ট্রের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে সরকারের দায়বদ্ধ থাকা প্রয়োজন। কোনো খাতই এই জবাবদিহির ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। তিনি আরও বলেন, দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের দাবি করা হলেও চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার মানুষ এখনও বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অনেক ক্ষেত্রে দরিদ্র পরিবারগুলো বিদ্যুৎ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে, তাই শুধু ব্যবহারের পরিসংখ্যান দিয়ে দারিদ্র্য নিরূপণ করা যৌক্তিক নয়। গবেষণার তথ্য চূড়ান্ত মনে না করে সেটির বাস্তব যাচাই জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা তুলে ধরে রিজভী বলেন, এই খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হলে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত হবে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট থাকলেও হতাশ হওয়ার অবকাশ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, বিকল্প উৎস অনুসন্ধান ও সঠিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরিশেষে বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি জানান তিনি। যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। কোনোভাবেই অতীতে ঘটে যাওয়া অনিয়মের সুযোগ যেন ভবিষ্যতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।






