
মানুষের মন কেবল ভালো গুণের সমষ্টি নয়; আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও আচরণের নেপথ্যে কাজ করে কিছু জটিল মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা। অনেক সময় আমরা অজান্তেই ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করি, অন্যের কষ্টে তৃপ্তি পাই অথবা ভিড়ের মাঝে নিজের দায়িত্ববোধ হারিয়ে ফেলি। এমন পাঁচটি অন্ধকার মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।
প্রথমত, ‘জাস্ট ওয়ার্ল্ড হাইপোথিসিস’ বা ন্যায্য পৃথিবী তত্ত্ব। এই মানসিক প্রবণতায় মানুষ বিশ্বাস করে যে পৃথিবীটা ন্যায়পরায়ণ, যেখানে ভালো মানুষের সাথে ভালো এবং খারাপ মানুষের সাথে খারাপ কিছু ঘটে। এই বিশ্বাসের কারণেই অনেক সময় ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করা হয়। যেমন, কেউ বিপদে পড়লে মানুষ প্রশ্ন তোলে—‘কেন তুমি তাকে বিশ্বাস করেছিলে?’ বা ‘নিশ্চয়ই তোমার কোনো ভুল ছিল’।
দ্বিতীয়ত, অন্যের কষ্ট দেখে আনন্দ পাওয়া। এটি এমন এক ব্যক্তিত্বগত বৈশিষ্ট্য, যেখানে কেউ অন্যের ছোটখাটো অপমান, অস্বস্তি বা ব্যর্থতা দেখে তৃপ্তি পায়। এটি সব সময় বড় কোনো অপরাধ না হলেও, অনলাইনে কাউকে ট্রল করা, ইচ্ছাকৃতভাবে বিব্রত করা বা কারও দুঃখ দেখে আনন্দ পাওয়ার মতো আচরণ এর অন্তর্ভুক্ত।
তৃতীয়ত, ‘দ্য বাইস্ট্যান্ডার ইফেক্ট’ বা দর্শক প্রভাব। এটি এমন এক অবস্থা, যেখানে অনেক মানুষের উপস্থিতিতে বিপদে পড়া ব্যক্তিকে সাহায্য করার প্রবণতা কমে যায়। এর পেছনে কাজ করে ‘ডিফিউশন অব রেসপনসিবিলিটি’ বা দায়িত্বের বিস্তার। সবাই ভাবে অন্য কেউ নিশ্চয়ই এগিয়ে আসবে, ফলে কেউ এককভাবে দায়িত্ব নিতে চায় না।
চতুর্থত, ভিড়ের মধ্যে ব্যক্তিসত্তা হারিয়ে ফেলা। আপনি যদি একজন ব্যক্তিকে একা একটি ইট দিয়ে বলেন যে ‘অমুক জানালার কাচ গুঁড়িয়ে দাও’, তিনি তা করবেন না। কিন্তু ওই একই ব্যক্তি যখন ভিড়ের মধ্যে থাকেন, তখন তাঁর বিবেকে সেটি আর বাধা দেয় না। ভিড়ের মাঝে মানুষ নিজের নৈতিকতা ও স্বতন্ত্র দায়িত্ববোধ হারিয়ে ফেলে।
পঞ্চমত, সহানুভূতির ক্ষয়। এটি এমন এক প্রবণতা, যেখানে একজন ব্যক্তির দুর্ভোগ দেখে আমাদের সহানুভূতি জাগলেও, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বাড়লে সেই সহানুভূতি কমে যায়। যেমন, একটি অসুস্থ শিশুর গল্প শুনে মানুষ যতটা আবেগপ্রবণ হয়, ‘লাখো শিশু একই সমস্যায় ভুগছে’ শুনলে অনেকের সাহায্য করার আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কমে আসে।
মানুষের এই মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো আমাদের সামাজিক আচরণের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এই প্রবণতাগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি, যাতে আমরা আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিতে পারি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০