নাগোয়ায় বিরতিহীন বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার মধ্যকার এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি মাঠে গড়ানো সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা আগেই আয়োজকরা ম্যাচটি বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবিধায় শেষ পর্যন্ত লিটন কুমার দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এখন পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। আগামীকাল কোরোগি স্পোর্টস পার্কে এই গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কেবল প্রতিপক্ষই নয়, বাংলাদেশের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নাগোয়ার বৈরী আবহাওয়া। টানা বৃষ্টিতে মাঠের অবস্থা বেশ নাজুক হয়ে পড়েছে। আকাশ পরিষ্কার হলেও মাঠ খেলার উপযোগী করতে কতটা সময় প্রয়োজন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। যদি বৃষ্টির কারণে সেমিফাইনালও পরিত্যক্ত হয়, তবে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশ ছাড়াই পাকিস্তান সরাসরি ফাইনালে জায়গা করে নেবে। একই দিনে অন্য সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে ভারত। বৃষ্টি যদি সেমিফাইনালও কেড়ে নেয়, তাহলে মাঠের লড়াই ছাড়াই ফাইনালের দরজা খুলে যাবে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দল পাকিস্তানের। তখনই আয়োজকরা জানিয়ে দেয়, ম্যাচ হবে না।
কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামতে না পেরে মালয়েশিয়ার ক্রিকেটাররা ভীষণ হতাশ। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার ব্যাটার বিরানদীপ সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তার আক্ষেপের কারণ, মালয়েশিয়াকে বাছাইপর্ব ও গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আসতে হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ সরাসরি সুযোগ পেয়েছে। বিরানদীপ জানান, বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার জন্য তিনি তিন বছর ধরে অপেক্ষায় ছিলেন। এর আগে ২০২৩ সালের ৪ঠা অক্টোবর এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনি খেলেছিলেন। সেদিন ৩৯ বলে ৫২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেললেও তার দল মাত্র ২ রানে ম্যাচটি হেরে গিয়েছিল। টেস্ট খেলুড়ে কোনো দেশের বিপক্ষে সেটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের একমাত্র ম্যাচ। এদিকে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছেন মালয়েশিয়ার ক্রিকেটাররা। বিরানদীপ লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে আমাদের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ বাতিল হয়েছে- এই খবর যখন পেলাম, তখন আমি তোয়ালে জড়িয়ে ছিলাম। সেদিন ৩৯ বলে ৫২ রানের দারুণ ইনিংস খেলেও দলকে জেতাতে পারেননি।
ম্যাচ বাতিলের খবরটি পাওয়ার সময় বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার নাফিস ইকবাল জানিয়েছেন, সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল। তবুও তারা মাঠে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু আয়োজকদের পক্ষ থেকে ম্যাচ না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর ক্রিকেটারদের মাঠে আর যেতে হয়নি। ফলে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের পুরো দিন হোটেলে কাটাতে হয়েছে। কেউ কেউ হোটেলের বাইরে বের হয়ে খাবার খেয়েছেন, আবার অনেকে হোটেলে বাঙালি খাবারের অর্ডার দিয়েছিলেন। নাগোয়ায় পৌঁছানোর পর থেকেই ক্রিকেটাররা কোনো রোদ দেখেননি এবং বৃষ্টির কারণে নিয়মিত অনুশীলনও ব্যাহত হচ্ছে। দুঃখের বিষয়, আমরা মাঠেই যেতে পারলাম না। সন্ধ্যায় কয়েকজন ছাতা হাতে বেরিয়েছিলেন নাগোয়ার রাস্তায়, অনেকে খাবারও খেয়েছেন বাইরে।
এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে অংশ নিয়েছে, তাই পদক জয়ের প্রত্যাশা অনেক বেশি। পুরুষ ক্রিকেটে ২০১০ সালে গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ জয়ই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এরপর ২০১৪ সালের ইনচনে রৌপ্য এবং ২০২৩ সালের হাংজু আসরে লাল-সবুজের দল ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল। সেই সোনালি ইতিহাস ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন নিয়ে নাগোয়ায় এসেছেন লিটনরা। তবে মাঠের লড়াইয়ের আগেই বৃষ্টির কারণে তাদের জন্য পরিস্থিতি বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন বড় প্রশ্ন হলো, সেমিফাইনালে বল গড়ানো সম্ভব হবে কিনা। নারীদের মতো পুরুষ দলও যদি বৃষ্টির ফাঁদে পড়ে, তবে পদক লড়াইয়ের চেয়ে ভাগ্যের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হবে বাংলাদেশকে।






