ফেনীর বন্যা পরিস্থিতির উন্নয়নে বড় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ দুপুরে পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে এবং খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় তিনি এই প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন করা হবে। পাশাপাশি ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনায় মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং নদী খনন ও সংস্কারের উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখান থেকে তিনি পুরো জেলাজুড়ে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে কার্ড এবং ফুলগাজীতে ৫১০ জন সুবিধাভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করবেন। একই সঙ্গে ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী প্রদান করার কথা রয়েছে। পরে তিনি সেখানে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন।
এছাড়া, ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ এবং জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ডাকবাংলো থেকে তিনি ছাদ ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করবেন। ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।
এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। এর আগে সকালে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে যাত্রা শুরু করে দুপুর সোয়া একটার দিকে ফেনীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবার বাড়ি হওয়ায় এই এলাকাটির সঙ্গে তার দীর্ঘ স্মৃতি রয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে এই আসন থেকে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের। এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সড়কপথে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন। ফুলগাজীসহ তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসনের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের স্মৃতি জড়িত।




