আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাব, প্লাস্টিক ও কৃত্রিম উপকরণের সহজলভ্যতা এবং কারিগরদের অনাগ্রহের কারণে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। জীবিকার তাগিদে এই পেশার সঙ্গে জড়িতরা এখন অন্য পেশায় ঝুঁকে পড়ছেন। স্থানীয় কারিগরদের ভাষ্যমতে, একসময় শীতলপাটির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। আগে পরিবারের নারীরা অবসর সময়ে পাটি বুনে বাড়তি আয় করতেন, কিন্তু এখন একটি পাটি তৈরিতে কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহ সময় ব্যয় করেও ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। ফলে অনেকেই এই আদি পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
কারিগররা জানান, কাঁচামালের উচ্চমূল্য, শ্রমের তুলনায় নামমাত্র পারিশ্রমিক এবং বাজারে আধুনিক ম্যাট ও প্লাস্টিক পণ্যের আধিপত্য এই শিল্পের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন প্রজন্মের মধ্যেও এই কারুশিল্প শেখার আগ্রহ নেই বললেই চলে। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, শীতলপাটি কেবল একটি ব্যবহার্য সামগ্রী নয়, এটি আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান বা অতিথি আপ্যায়নে শীতলপাটির বিশেষ কদর থাকলেও আধুনিক পণ্যের ভিড়ে তা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।
এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, কারিগরদের প্রশিক্ষণ প্রদান, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, কাঁচামালের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং দেশি-বিদেশি বাজারে পণ্যের বিপণন ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে এই শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে একদিকে যেমন বহু পরিবার কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, তেমনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই গ্রামীণ কারুশিল্পও টিকে থাকবে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলার প্রাচীন ঐতিহ্য ও কারিগরদের সুরক্ষায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিশেষ করে কারিগরদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদান এবং তাদের তৈরি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিপণন সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয়ভাবে শীতলপাটি তৈরির সঙ্গে জড়িত কারিগররা জানান, আগে এ পাটির চাহিদা ছিল অনেক বেশি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে নতুন প্রজন্মও এ কাজ শেখার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে কামারখন্দ থেকে হারিয়ে যেতে পারে শীতলপাটি তৈরির ঐতিহ্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একসময় বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা অতিথি আপ্যায়নে শীতলপাটির বিশেষ গুরুত্ব থাকলেও বর্তমানে আধুনিক পণ্যের ভিড়ে এর ব্যবহার অনেকটাই কমে গেছে।






