বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার পূর্ব দিকে চিম্বুক রেঞ্জের কির্সতং পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সাইংপ্রা ঝর্ণা। এটি সাধারণ পর্যটনকেন্দ্রের মতো সহজগম্য কোনো স্থান নয়, বরং দুর্গম পাহাড়ি ট্রেইল পাড়ি দিয়ে পৌঁছাতে হয় এই বুনো ঝর্ণায়। চার থেকে পাঁচটি ধাপে বিভক্ত এই ঝর্ণার প্রতিটি স্তরের রয়েছে নিজস্ব সৌন্দর্য। কির্সতং ও রংরাং পাহাড় সামিট করতে যাওয়া অভিযাত্রীরা প্রায়ই তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় এই ঝর্ণাকে যুক্ত করে থাকেন।
ঝর্ণায় পৌঁছানোর পথটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। আলীকদমের মেনিয়াংক পাড়া থেকে রংরাং ও কির্সতং সামিট শেষে খেমচং পাড়া হয়ে সাইংপ্রার পথে এগোতে হয়। ট্রেইলের শুরুতে খাড়া পাহাড় বেয়ে নিচে নামার পর শুরু হয় পিচ্ছিল ও বড় বড় বোল্ডারে ভরা পাথুরে পথ। বর্ষাকালে এই পথ আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য ট্রেকিং শেষে ঝর্ণার দেখা পাওয়া পর্যটকদের জন্য এক বড় প্রাপ্তি হয়ে দাঁড়ায়।
ভ্রমণের শুরুতে আলীকদম পৌঁছে স্থানীয় গাইড ঠিক করা বাধ্যতামূলক। গাইডের পারিশ্রমিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। যাত্রাপথে আলীকদমের আমতলী ঘাট থেকে তৈনখালের উজানে নৌকাযোগে দুছরী বাজারে পৌঁছাতে হয়। সেখান থেকে ট্রেকিং শুরু করে মেনকিউ পাড়া, মেনিয়াংক পাড়া, রুংরাং পাহাড় এবং খেমচং পাড়া হয়ে সাইংপ্রা পৌঁছাতে হয়। এই দুর্গম এলাকায় কোনো হোটেল বা রিসোর্ট নেই, তাই রাতে থাকার জন্য স্থানীয় ম্রো পাড়ার কারবারীর সঙ্গে আগে থেকে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা করতে হয়।
আলীকদম ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়শনের সভাপতি মিন্টু দে জানান, সাইংপ্রার ট্রেকিং মোটেও সহজ নয়। পর্যটকদের প্রতিদিন আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত পাহাড়ি পথে হাঁটতে হতে পারে। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যাকপ্যাক বহন করতে হয় এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে। তাই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এই পথে যাত্রা করা ঝুঁকিপূর্ণ।
ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ট্রেকিং ব্যাগ, ট্রেকিং প্যান্ট, উপযোগী জুতা বা স্যান্ডেল, পানির বোতল, শুকনা খাবার, হেডল্যাম্প, গামছা, মশা প্রতিরোধের উপকরণ, স্যালাইন ও গ্লুকোজ। বর্ষাকালে রেইন কভার বা পলিথিন সাথে রাখা জরুরি। এছাড়া পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা শিক্ষার্থী পরিচয়পত্রের ফটোকপি সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা স্বচ্ছ জলের ধারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোথাও ঝিরির শব্দ, কোথাও নিস্তব্ধতার রাজত্ব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পর্যটকদের পরিচিত অনেক ঝর্ণার মতো সাইংপ্রা সহজে পৌঁছানো যায় এমন কোনো পর্যটনকেন্দ্র নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারণ, ঝর্ণাটির সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর পথে রয়েছে পাহাড়কে কাছ থেকে অনুভব করার অন্যরকম অভিজ্ঞতা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পথটি যেমন দুর্গম, তেমনি মনোমুগ্ধকর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাথরের ওপর পা রেখে চলাই অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোথাও পা পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা, কোথাও পাথর আঁকড়ে এগিয়ে চলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একপর্যায়ে নিচের দিকে নামার পথ শেষ হয়ে শুরু হয় ওপরে ওঠা।






