
তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের প্রসার আর ক্রীড়াকে সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে ফিফার বিশেষ আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ‘ফুটবল ফর স্কুলস’। এই প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনার জন্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ফিফার ডিরেক্টর ফ্রাঙ্ক লুইস বার্টোলোমেজ কাস্তিলো। ২০১৯ সালে ইউনেস্কোর সঙ্গে যৌথভাবে শুরু হওয়া ফিফার এই বৃহৎ প্রকল্পের লক্ষ্য বিশ্ব জুড়ে প্রায় ৭০ কোটি শিশুর ক্ষমতায়ন, বিকাশ ও শিক্ষায় ভূমিকা রাখা। ইতিমধ্যে বিশ্বের শতাধিক দেশে চালু হয়েছে এই কর্মসূচি, যার মধ্যে রয়েছে ভুটান ও ওমানের মতো দেশ। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে তৃণমূল ফুটবলের সার্বিক উন্নয়ন ও কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, আসন্ন ফিফা নারী বিশ্বকাপের মূল ভাবধারা ও বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় প্রথম ধাপে অন্তর্ভুক্ত করা হবে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়— ‘নারী ও কন্যাসন্তানের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ’ এবং ‘শিশু সুরক্ষা’। পরবর্তী ধাপে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, স্যানিটেশন ও দুর্যোগ মোকাবিলার মতো বিষয়গুলোও যুক্ত হতে পারে। বিদ্যালয়গুলোতে শারীরিক শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষকরাও যেন সহজে ফুটবল সেশন পরিচালনা করতে পারেন, সেজন্য বিশেষায়িত ও সহজবোধ্য কারিকুলাম প্রদান করা হবে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের ভবিষ্যতে গ্রাসরুটস কোচিং কোর্স সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে। এর পাশাপাশি নিয়মিত স্কুল টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে দেশ জুড়ে সুপ্ত ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ স্থানীয় মালিকানা থাকবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের হাতে। কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বাফুফে একজন স্থানীয় প্রজেক্ট ম্যানেজার নিয়োগ দেবে, যাকে সরাসরি কারিগরি প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা প্রদান করবে ফিফা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে দু’জন অভিজ্ঞ শিক্ষককে ‘মাস্টার ইনস্ট্রাক্টর’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আগামী জানুয়ারি মাসে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মধ্যদিয়ে শুরু হবে এই কর্মসূচির পাইলট ফেজ। তিন থেকে চার মাসের প্রাথমিক পর্যালোচনার পর সফলতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে দেশের সব বিদ্যালয়ে এটি সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্রীড়া শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের সাফল্য আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০