
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের অপেক্ষার অবসান ঘটছে। প্রশাসনিক সব প্রস্তুতি শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র প্রদান শুরু হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়গুলো থেকে এই নিয়োগপত্র সরাসরি বিতরণ করা হবে। সুপারিশপ্রাপ্তদের আগামী ১ অক্টোবর নিজ নিজ জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান করতে হবে এবং পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৪ অক্টোবর থেকে তাঁদের পদায়ন কার্যক্রম শুরু হবে। শেষ তারিখ: ২০ অক্টোবর। 500, 20.
নিয়োগপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল যাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট ইতিবাচক এসেছে, তারাই নিয়োগপত্র হাতে পাবেন। কোনো প্রার্থীর ভেরিফিকেশনে বিরূপ তথ্য পাওয়া গেলে তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট এবং শিক্ষাগত সনদের সত্যতা যাচাইয়ের তথ্যগুলোও চূড়ান্তভাবে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। তবে নিয়োগ প্রদানের নির্দেশনাবলিতে কী আছে, এই বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ছাড়া নিয়োগ–সংক্রান্ত অন্যান্য প্রাথমিক শর্ত পূরণ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিভিন্ন জেলার শিক্ষা কর্মকর্তারা এই প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মিত্র জানিয়েছেন, অধিদপ্তর থেকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নিয়োগপত্র পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং জেলা কার্যালয়গুলো তা বিতরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কক্সবাজারের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখ থেকেই তারা নিয়োগপত্র প্রদান শুরু করবেন।
নিয়োগপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ফলাফল প্রকাশের পর দীর্ঘ সাত মাসের বেশি সময় নিয়োগপত্র আটকে ছিল। মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই, একাধিকবার পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের কারণে এই বিলম্ব ঘটে। দ্রুত নিয়োগের দাবিতে প্রার্থীরা একাধিকবার স্মারকলিপি প্রদান এবং গত ২ আগস্ট রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনের সেই দিনই মন্ত্রণালয় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। ঢাকার বাইরে চাকরি কোথায় বেশি, চট্টগ্রাম–কুমিল্লা না নারায়ণগঞ্জ–গাজীপুরে। সরকারিভাবে ব্রুনেইয়ে চাকরি, নেবে ২৭৯ জন। পরবর্তী সময়ে দাবির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে গত ২ আগস্ট প্রার্থীরা রাজধানীর শাহবাগে রাজপথে অবস্থান নেন।
বর্তমানে দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষকসংকট বিরাজ করছে। শিক্ষকস্বল্পতায় অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ১৪ হাজার ৩৮৪ জন নতুন শিক্ষক নিজ নিজ জেলায় যোগ দিলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় গতি ফিরবে এবং বিদ্যমান সংকট অনেকটা লাঘব হবে। অনেক স্কুলে প্রয়োজনীয় শিক্ষকের অভাবে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য দ্রুত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার চিন্তাভাবনা করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, চাকরির অংশ হিসেবে নতুন শিক্ষকদের মূলত দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পদায়ন হওয়ার পরপরই যেন এই প্রশিক্ষণ শুরু করা যায়, সে বিষয়ে বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। তবে প্রশিক্ষণের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি; ৪ অক্টোবর পদায়নের দিন থেকেই তা শুরু করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০