ট্রাম্প যুগের অবসান: মার্কিন রাজনীতিতে নতুন মোড়

প্রকাশ:
Print news

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় ধরনের বিজয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতি ভোটারদের অনীহা ও স্পষ্ট প্রত্যাখ্যানের বার্তা দিয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময় পর পাওয়া এই ফলাফল ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের আসনগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের এই বড় ব্যবধান রিপাবলিকানদের জন্য একটি বড় ধাক্কা, যা দলটির ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের আগের কোনো প্রেসিডেন্ট মধ্যবর্তী নির্বাচনকে নিজের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের এত বড় পরীক্ষায় পরিণত করেননি। আর এই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি গত দুই বছরের তুলনায় অনেক বেশি অস্থির হতে পারে। কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি নিতে চায় ভারত। এতে দুর্নীতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ আরো বেড়েছে।

নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় ট্রাম্প ভোটারদের বারবার অনুরোধ করেছিলেন যেন তারা এমনভাবে ভোট দেন, যা সরাসরি তাকে সমর্থন করে। এই শরতে তিনি অন্তত ৪৭ বার ভোটারদের উদ্দেশ্যে এমন বার্তা দিয়েছিলেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের হোয়াইট হাউসবিষয়ক প্রধান সংবাদদাতা পিটার বেকার, যিনি ১৯৮৬ সাল থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচন কভার করে আসছেন, তাঁর এক বিশ্লেষণমূলক নিবন্ধে এই ফলাফলকে ট্রাম্প যুগের প্রতি এক বড় ধরনের প্রত্যাখ্যান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দুবার ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে পৌঁছে দেয়া ভোটার জোটের ওপরও তাঁর আগের মতো নিয়ন্ত্রণ আর নেই। নিউ ইয়র্ক টাইমস বুধবার (৪ নভেম্বর) জানায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্প ভোটারদের বারবার বলেছিলেন, ‘এমনভাবে ভোট দিন, যেন ব্যালটে আমার নাম আছে। মঙ্গলবার রাতে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ব্যালটে ছিলাম না। আর আমি ব্যালটে না থাকায় পর্যাপ্ত মানুষকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি।’। প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে নির্বাচনের ইস্যু, কৌশল ও প্রচারের বার্তা—সবকিছুই নির্ধারণ করেছেন তিনি। সীমান্ত বন্ধ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।

ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে জ্বালানির উচ্চমূল্য, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা এবং ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ উপার্জনের অভিযোগকে দায়ী করা হচ্ছে। বুধবার ভোর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, জাতীয়ভাবে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে প্রায় ১৩ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারে। ১৯৭৬ সালের পর থেকে কংগ্রেসের কোনো নির্বাচনে কোনো দলের জন্য এটি অন্যতম বড় ব্যবধান। রিপাবলিকানদের হারে ইরান যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করলেন ট্রাম্প। এখন সেই সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হচ্ছে তাঁকে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে নতুন ঊর্ধ্বগতি। তবে নির্বাচনে ভরাডুবির পরপরই নিজের অবস্থান সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন ট্রাম্প। এ ছাড়া ক্ষমতায় থেকে নিজের অর্থ উপার্জনের নৈতিকতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নও তিনি এড়িয়ে গেছেন। তুলনামূলক বেশি জয়ের সম্ভাবনা থাকা প্রার্থীদের বাদ দিয়ে তিনি কেন প্যাক্সটন ও ডারলিন গ্রাহামকে বেছে নিয়েছিলেন, এখন সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

বিল ক্লিনটন ও বারাক ওবামার শাসনামলে হওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা যে জয় পেয়েছিল, এবারের ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান তাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

যদিও নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে আসন সংখ্যার হিসাবে এই ব্যবধান কিছুটা কমতে পারে, তবুও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিতটি অত্যন্ত স্পষ্ট। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে এই পরাজয় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো গণরায় নয়, কারণ তিনি ব্যালটে ছিলেন না। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এবারের পুরো নির্বাচনী প্রচার ট্রাম্পকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে।

সাবেক ডেমোক্র্যাট মেয়র ও রাষ্ট্রদূত রাহম ইমানুয়েল মনে করেন, যারা এতদিন ট্রাম্পের অনুগত ছিলেন, এমন অনেক রিপাবলিকান এখন দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাস ও সাউথ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থীদের পরাজয় তাঁর দলীয় প্রভাবের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে। অনেক ভোটার জরিপে অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাম্প নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো এবং নতুন যুদ্ধ এড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য শুনে অনেক রিপাবলিকানও বিরক্তি প্রকাশ করবেন। তাঁর কাছ থেকে দূরত্ব তৈরির সাহস অনেক রিপাবলিকান প্রার্থী দেখাতে পারেননি।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ডগলাস বি. সোসনিকের মতে, এই নির্বাচনের পর থেকে মার্কিন রাজনীতি একটি নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে। আগামী দুই বছর হবে বড় পরিবর্তনের সময়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের অভ্যন্তরীণ নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা জো গ্রোগান অবশ্য মনে করেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির চেহারা স্থায়ীভাবে বদলে দিয়েছেন এবং দলীয় পরিচয় নতুন করে তৈরি করেছেন। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পবাদের প্রত্যাখ্যান ঘটবে বলে যারা মনে করছেন, তারা ভুল করছেন এবং তারা এখনো ট্রাম্পের দলের সঙ্গেই আছেন। পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা একজন বহিরাগত নেতার ওপর যারা একসময় আস্থা রেখেছিলেন, তাঁদের অনেকেই এবার তাঁর দলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ভোক্তাদের খরচ বাড়িয়ে দেয়া শুল্কনীতির বিরুদ্ধেও তাঁদের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ কমানোর পরিকল্পনার কথা বলার বদলে তিনি ওয়াশিংটনের রিফ্লেক্টিং পুলের সামনে দাঁড়িয়ে শেওলা ও পানির পাইপ নিয়ে কথা বলেন।

অধ্যাপক লিন ভ্যাভরেক বলছেন, মাগা (MAGA) জোট পুরোপুরি ভেঙে না গেলেও ট্রাম্পের প্রতি মানুষের আকর্ষণ আগের চেয়ে কমেছে।

তবুও রক্ষণশীল নীতিমালার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রভাব এখনো অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।

তবে ডেমোক্র্যাটদের এই বিপুল জয় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আধিপত্য ও তাঁর শাসন পদ্ধতির ওপর যে ভোটারদের বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

আগামী দুই বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ক্ষমতা বলবৎ থাকলেও এই ফলাফল তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক যাত্রাকে বেশ জটিল করে তুলবে।

ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অতীতে ১৯৯৪ বা ২০১০ সালের নির্বাচনে কোনো দল বড় জয় পেলেও দুই বছর পর প্রেসিডেন্সির লড়াইয়ে ভিন্নচিত্র দেখা গেছে। তাই এবারের জয় ডেমোক্র্যাটদের জন্য কতটুকু দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা বয়ে আনবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে এই মুহূর্তে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির জন্য ভোটারদের কাছ থেকে আসা এই কঠোর বার্তা বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা মানুষদের বিরুদ্ধে কঠোর ধরপাকড় দেখে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

শেয়ার করুন
শিরোনাম :
ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার গোলে অ্যাস্টন ভিলাকে হারাল বার্সেলোনা ট্রাম্প যুগের অবসান: মার্কিন রাজনীতিতে নতুন মোড় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উদ্বোধন করতে খুলনায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে ইতিহাসের প্রথম আফ্রো-লাতিনা মুসলিম কংগ্রেস সদস্য শেভালিয়ের ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ ৩১ হাজার ৯৯৯ টাকায় শাওমির নতুন শক্তিশালী রেডমি ১৭ ফাইভ-জি ফোন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়, চাপে ট্রাম্প স্বদলীয় এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে নওগাঁয় বিএনপি নেতার হুঁশিয়ারি ৫২তম বিসিএস কি বিশেষ হবে? চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে বাড়ছে সংশয় ও কৌতূহল যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেল ডেমোক্র্যাটরা করাচি টেস্টে শেন ওয়ার্নকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেন সেলিম মালিক ইসরায়েলকে ৩৮০ কোটি ডলারের সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকে সম্মতি, মধ্যস্থতায় কাতার কিলিয়ান এমবাপেকে টপকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নতুন ইতিহাস লামিন ইয়ামালের নিউ ইয়র্কের গভর্নর পদে পুনর্নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্যাথি হাচুল মার্কিন নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সুবিধাজনক অবস্থানে ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকা নিয়ে তথ্য ভিয়ারিয়ালকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে পিএসজির টানা চতুর্থ জয় সত্য বলার নীতিতেই অটল থাকার প্রত্যয় ক্যাডেট এএসআই নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, সুপারিশপ্রাপ্ত ২০০০ ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার গোলে অ্যাস্টন ভিলাকে হারাল বার্সেলোনা ট্রাম্প যুগের অবসান: মার্কিন রাজনীতিতে নতুন মোড় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উদ্বোধন করতে খুলনায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে ইতিহাসের প্রথম আফ্রো-লাতিনা মুসলিম কংগ্রেস সদস্য শেভালিয়ের ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ ৩১ হাজার ৯৯৯ টাকায় শাওমির নতুন শক্তিশালী রেডমি ১৭ ফাইভ-জি ফোন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়, চাপে ট্রাম্প স্বদলীয় এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে নওগাঁয় বিএনপি নেতার হুঁশিয়ারি ৫২তম বিসিএস কি বিশেষ হবে? চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে বাড়ছে সংশয় ও কৌতূহল যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেল ডেমোক্র্যাটরা করাচি টেস্টে শেন ওয়ার্নকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেন সেলিম মালিক ইসরায়েলকে ৩৮০ কোটি ডলারের সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকে সম্মতি, মধ্যস্থতায় কাতার কিলিয়ান এমবাপেকে টপকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নতুন ইতিহাস লামিন ইয়ামালের নিউ ইয়র্কের গভর্নর পদে পুনর্নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্যাথি হাচুল মার্কিন নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সুবিধাজনক অবস্থানে ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকা নিয়ে তথ্য ভিয়ারিয়ালকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে পিএসজির টানা চতুর্থ জয় সত্য বলার নীতিতেই অটল থাকার প্রত্যয় ক্যাডেট এএসআই নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, সুপারিশপ্রাপ্ত ২০০০