ঢাকার আলোচিত অপরাধী পিচ্চি হান্নানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. মাসুদুল করিম ওরফে ‘কিলার মাসুদ’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। ফরিদগঞ্জের ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক এ আসামির পুরো নাম মো. মাসুদুল করিম ওরফে মাসুদ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ জানায়, এএসআই জুমায়েত হোসেন জুয়েল ও এএসআই মাসুদুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং এলাকায় স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মাসুদুল করিম ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের পূর্ব লাড়ুয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হালিম ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি ফরিদগঞ্জ থানার একটি অস্ত্র মামলায় ১৪ বছরের জিআর সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। বর্তমানে তিনি ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, কিলার মাসুদ একসময় ঢাকার আলোচিত অপরাধী পিচ্চি হান্নানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০৪ সালের ২৬ জুন পিচ্চি হান্নান র্যাবের অভিযানে নিহত হওয়ার পর মাসুদ আত্মগোপনে চলে যান। এরপর দীর্ঘদিন তিনি পলাতক ছিলেন। স্থানীয়রা আরও জানায়, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত ড. শামছুল হক ভূঁইয়ার হাত ধরে মাসুদুল করিম ফরিদগঞ্জে যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। একপর্যায়ে তিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ওই সময় তিনি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিলেন।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, ফরিদগঞ্জ থানা ও ডবলমুরিং থানা পুলিশের সহযোগিতায় যৌথ অভিযান চালিয়ে ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাসুদুল করিম ওরফে ‘কিলার মাসুদকে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে ফরিদগঞ্জ থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধরার জন্য বিশেষ তৎপরতা চালিয়ে আসছিল এবং অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।






