ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত ও উদ্ভাবনী পরিচালক সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯৪ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই গুণী নির্মাতা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চেন্নাইয়ের কাভেরি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার নাতি অশ্বিন জানিয়েছেন, রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টায় চেন্নাইয়ের এভিএম শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সিঙ্গীতমের নাতি অশ্বিন জানিয়েছে ন, রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে চেন্নাইয়ের এভিএম শ্মশানে এই চলচ্চিত্র নির্মাতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
১৯৩১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের গুদুরে জন্ম নেওয়া এই নির্মাতার কর্মজীবন ছিল ছয় দশকের। নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় ৬০টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে নতুন ঘরানা ও ভিন্নধর্মী গল্প বলার কৌশলে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের অনন্য অবস্থান তৈরি করেছিলেন। 'পুষ্পক বিমানম' এবং টাইম-ট্রাভেল বিষয়ক মহাকাব্যিক সিনেমা 'আদিত্য ৩৬৯'-এর মতো চলচ্চিত্রের জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। সামাজিক গল্প থেকে শুরু করে ব্যতিক্রমী কল্পকাহিনি, প্রতিটি সিনেমায় নতুন কিছু করার চেষ্টা ছিল তার।
সিনেমার প্রতি সিঙ্গীতমের ভালোবাসা শুরু হয় কিংবদন্তি পরিচালক কে ভি রেড্ডির সহকারী হিসেবে কাজ করার মধ্য দিয়ে। ১৯৫৭ সালের 'মায়াবাজার' এবং ১৯৬১ সালের 'জগদেকা ভীরুনি কথা'-এর মতো কালজয়ী সিনেমাগুলোর নির্মাণপ্রক্রিয়ায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে একজন দক্ষ নির্মাতা হিসেবে গড়ে তোলে। ১৯৭২ সালে 'নীতি নিজায়িতি' সিনেমাটির মাধ্যমে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে তার অভিষেক ঘটে। সেই সময়ের অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তার নিজস্ব চলচ্চিত্রভাষা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে।
কর্মজীবনের নানা পর্যায়ে তিনি একাধিক স্বীকৃতি ও পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৭৪ সালে নির্মিত 'দিক্কাত্র পার্বতী' তামিল ভাষার সেরা ফিচার ফিল্ম হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়া ১৯৭৭ সালের 'থারাম মারিন্দি' তাকে নান্দী পুরস্কার এনে দেয়। ১৯৮৫ সালে ভারতীয় নৃত্যশিল্পী সুধা চন্দ্রনের জীবনের ওপর ভিত্তি করে তিনি নির্মাণ করেন 'ময়ুরি', যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। পরবর্তীতে সিনেমাটি হিন্দিতে 'নাচে ময়ুরি' নামে মুক্তি দেওয়া হয়। বৈচিত্র্যময় সব কাজ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তিনি পাঁচ ভাষায় চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। মুক্তির পর সিনেমাটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। কেবল তাই নয়, একাধিক পুরস্কারও অর্জন করে এটি। Do Not Sell or Share My Personal Information। We won't sell or share your personal information to inform the ads you see। You may still see interest-based ads if your information is sold or shared by other companies or was sold or shared previously।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০