নরসিংদীর রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে চেয়ারম্যানের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুরে চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের বাড়ির সামনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে চেয়ারম্যানের সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির অন্তত সাত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়া রায়পুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভুইয়ার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আহতরা হলেন— রায়পুরা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন, রায়পুরা সরকারি কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন আমু, উপজেলা যুবদল সদস্য রাসেল ভূইয়া, উপজেলা জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম পলাশ, কাচারিকান্দি এলাকার রিমন আহম্মদ ও ফকিরেরচর এলাকার জাহাঙ্গীর আলম। আহতদের রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের সমর্থক নারী-পুরুষেরা মানববন্ধন করেন। এ সময় রায়পুরা উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে গেলে তাদের সঙ্গে মানববন্ধনকারীদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেলযোগে চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের বাড়ির দিকে গেলে সেখানে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের বাড়ি ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, চেয়ারম্যানের বাড়ির গেট ও ভেতরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। চেয়ারম্যানের বাড়ি অতিক্রম করার সময় লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে মোটরসাইকেলের বহরে হামলা করা হয়েছে, যাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
রায়পুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভুইয়া অভিযোগ করে বলেন, ফারুক চেয়ারম্যানকে আদালত কারাগারে পাঠানোর পর তার অনুসারীরা হাসিমপুর বাজারে মানববন্ধন করে। এ সময় আমরা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ছিলাম। পরে খবর পাই আমার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়েছে। রায়পুরা সদর থেকে নেতারা আসার পর তাদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়। তিনি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
রায়পুরা থানার তদন্ত কর্মকর্তা টিএম ফরিদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ফারুক চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানোর পর তার অনুসারীরা মানববন্ধনের চেষ্টা করে। বিষয়টি কেন্দ্র করে বিএনপির নেতারা মামুদপুর এলাকায় গেলে চেয়ারম্যানের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, সোমবার নরসিংদী আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে যান রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলী। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই তার মুক্তির দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।






