
পরিকল্পিত নগরায়ন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ হাতে নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি জনগণের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। আগামীকাল ৫ অক্টোবর ‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ব বসতি দিবস আমাদের সেই দায়িত্বের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
১৯৮৬ সাল থেকে প্রতি বছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্বজুড়ে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়ে আসছে। ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’—জাতিসংঘ ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্যটি বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও দ্রুত নগরায়নের ফলে আবাসন চাহিদাও বাড়ছে, যা মোকাবিলা করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। ১৯৮৬ সাল থেকে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়ে আসছে। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’ প্রত্যয় সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করাকে একটি মৌলিক অঙ্গীকার হিসেবে দেখছে। সরকার শুধু একটি ছাদের নিশ্চয়তা নয়, বরং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং নাগরিক সেবাসমূহকে ‘সবার জন্য বাসস্থান’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করেছে। এছাড়া নগর উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে নতুন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।
সরকার এমন এক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যেখানে শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে মানুষ সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, দূষণ ও আবাসন সংকটের মতো চ্যালেঞ্জগুলো দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, নিম্ন আয়ের মানুষ ও বস্তিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের মালিকানা নিশ্চিত করাও সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।
টেকসই নগরায়ন নিশ্চিত করা শুধু সরকারি প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করে না বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগকারী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, এনজিও, সামাজিক সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বিশেষ করে পরিবেশ সুরক্ষা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উল্লেখ করেন, পরিকল্পিত নগরায়ন ও সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। জলবায়ুজনিত অভিবাসনের ফলে যেসব সংকট তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বর্তমান সরকার।
পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-১১ অর্জনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে একটি মানবিক ও বসবাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য জানিয়ে তিনি বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০