উয়েফা নেশনস লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চলে যাওয়ার বিষয়টি ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কোচ হোর্হে জেসুসের সাথে একাদশে থাকা নিয়ে সৃষ্ট মতভেদের জেরে ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা দল ত্যাগ করেন। তবে তার এই চলে যাওয়া নিয়ে দলের ভেতর কোনো ধরনের বিভক্তি তৈরি হতে দিতে চান না সতীর্থ ব্রুনো ফার্নান্দেজ। তিনি দেশের ফুটবল ও জাতীয় দলের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে একাদশে রাখা না রাখা নিয়ে তৈরি হওয়া মতবিরোধের জেরে ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা দল ত্যাগ করলেও, দেশের ফুটবলে তার অবদান ও গুরুত্বকে সবার ওপরে স্থান দিয়েছেন সতীর্থ ব্রুনো ফার্নান্দেজ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা যেন বিষয়গুলো নিয়ে বিভক্ত না হই।
ফার্নান্দেজ জানান, তিনি সরাসরি রোনালদোর সঙ্গে কথা বলেছেন। দলের সর্বকালের সেরা এই তারকাকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘রোনালদোর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি তাকে যা বলেছি, তা সবার সামনেও বলছি—যা-ই ঘটুক, রোনালদোই আমাদের জাতীয় দল, আমাদের ফুটবল এবং দেশের সবচেয়ে বড় প্রতীক। সারা বিশ্বে পর্তুগালের মর্যাদা বৃদ্ধিতে তার অসামান্য অবদানই তাকে এই সম্মানের অধিকারী করেছে।’ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই তারকা আরও জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি পর্তুগিজের হৃদয়ে রোনালদোর বিশেষ অবস্থান রয়েছে এবং বর্তমানে দলের ভেতরে কোনো বিভাজন নেই, ভবিষ্যতেও থাকবে না।
রোনালদোকে ছাড়াই মাঠে নেমে ডেনমার্কের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয় তুলে নিয়েছে পর্তুগাল। এই জয়ের মাধ্যমে নেশনস লিগের গ্রুপ পর্বে নিজেদের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করল জেসুসের দল। ম্যাচ শেষে কোচ হোর্হে জেসুসও ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে দেশের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে রোনালদোর দল ছাড়ার নেপথ্য কারণ বা চলমান বিতর্ক নিয়ে ম্যাচের পরবর্তী সময়ে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন ৭২ বছর বয়সী এই কোচ। বর্তমানে তার পুরো মনোযোগ নরওয়ের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচ ও দলের প্রস্তুতির ওপর। রুদ্ধশ্বাস সেই ম্যাচে ডেনিশদের ৪-২ গোলে পরাজিত করে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখে জেসুসের দল।
জাতীয় দলের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও ম্যাচ খেলার রেকর্ডধারীর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানান গুঞ্জন ডালপালা মেললেও, পর্তুগাল শিবির মাঠের খেলা এবং দলের অখণ্ডতা বজায় রাখার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রোনালদোহীন এই পরিস্থিতিতে দলের ঐক্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে না দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে পুরো পর্তুগিজ স্কোয়াড।






