
দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে চাকরিপ্রার্থী এবং নিয়োগদাতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির লক্ষ্যে সরকার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে 'এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ' চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মূলত স্থানীয়ভাবে দক্ষ কর্মী ও চাকরির তথ্যের যে অমিল রয়েছে, তা দূর করাই এই ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি পরামর্শ সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মী প্রয়োজন হলে স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত চাকরিপ্রার্থীদের মধ্য থেকেও উপযুক্ত ব্যক্তিকে খোঁজার সুযোগ তৈরি হবে। ছয় মাসের চাকরি খোঁজার অভিজ্ঞতায় যে ৬টি পরামর্শ দিলেন ১৬ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাজীবী।
প্রাথমিক পর্যায়ে পুরো দেশে নয়, বরং কয়েকটি নির্বাচিত জেলা ও উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এর কার্যক্রম শুরু হবে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব কামরুন নাহার জানিয়েছেন যে, কার্যক্রমটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। পরবর্তী মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনের উপস্থিতিতে পাইলট প্রকল্পের এলাকা নির্বাচন ও অন্যান্য খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করা হবে। দেশে বর্তমানে ৬৪টি জেলা ও ৫০৩টি উপজেলা রয়েছে, যার মধ্যে থেকে পর্যায়ক্রমে সব এলাকায় এটি সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। প্রথম অবস্থায় আমরা পাইলট কার্যক্রম শুরু করব। সরকারের পরিকল্পনা হলো নির্বাচিত এলাকায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা নিয়ে পরে ধাপে ধাপে অন্য এলাকাগুলোকে এর আওতায় আনা।
এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কাঠামো প্রকাশ করা না হলেও মূল ধারণাটি হচ্ছে তথ্যের কেন্দ্রীয়করণ। এখানে চাকরিপ্রার্থীরা তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার তথ্য নিবন্ধন করতে পারবেন। একইসাথে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শূন্য পদের বিবরণ ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতার তথ্য সেখানে জমা দেবে। ফলে প্রার্থী ও নিয়োগদাতার মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ তৈরি হবে। কোনো প্রার্থীর নির্দিষ্ট দক্ষতার ঘাটতি থাকলে তাকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও বাজেটে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ একজন চাকরিপ্রার্থী হয়তো কাজ খুঁজছেন, কিন্তু তাঁর এলাকায় যে কাজটি আছে, তার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তাঁর নেই।
তবে কেবল তথ্য আদান-প্রদানই যথেষ্ট নয়, শ্রমবাজারের চাহিদার সাথে দক্ষতার সমন্বয় করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ১০টি শিল্প খাতে গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে, যা প্রযুক্তিভিত্তিক খাতের ক্ষেত্রে আরও বেশি। এছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে 'লেবার ডিমান্ড সার্ভিস সার্ভে' পরিচালনা করছে, যাতে ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের চাহিদার পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব হয়। প্রযুক্তিনির্ভর খাতগুলোতে এই ঘাটতি তুলনামূলক বেশি ছিল।
আইএলওর মার্চ ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশে অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান ও আংশিক বেকারত্বকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এপ্রিল ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের ধীরগতি নতুন চাকরির সুযোগ তৈরিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সরাসরি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি না করলেও বিদ্যমান চাকরির সুযোগগুলো সম্পর্কে স্থানীয়দের সচেতনতা ও তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করবে।
এ ধরনের উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬ থেকে ২০ গ্রেডে ১০০টি পদের বিপরীতে নিয়োগ চলছে। একইভাবে তরুণ পেশাজীবীদের জন্য ক্যারিয়ার বিষয়ক পরামর্শ এবং জাপানে বৃত্তিসহ প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বেতনের সুযোগের মতো বিভিন্ন তথ্যও গুরুত্ব পাচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ থেকে ২০ গ্রেডে চাকরি, পদ ১০০।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশেষ করে ঢাকার বাইরে থাকা চাকরিপ্রার্থীরা স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার কর্মসংস্থানের তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা ভোগ করবেন। কোন দপ্তর এটি সমন্বয় করবে বা কারা নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন, সেই নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০