
চাকরিপ্রার্থী ও স্থানীয় নিয়োগদাতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকার ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ নামের একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এর মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলা ও ৫০৩টি উপজেলার চাকরিপ্রার্থীরা তাঁদের যোগ্যতা ও দক্ষতার তথ্য নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শূন্য পদের তথ্য এখানে যুক্ত করতে পারবে, যা দক্ষ কর্মী খুঁজে পেতে সহায়ক হবে। কিন্তু তাঁর এলাকায় কোন প্রতিষ্ঠানে সেই দক্ষতার কর্মী প্রয়োজন, সেই তথ্য তাঁর জানা নেই। কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মী প্রয়োজন হলে স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত চাকরিপ্রার্থীদের মধ্য থেকেও উপযুক্ত ব্যক্তিকে খোঁজার সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগটির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। গত এপ্রিল মাসে এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি পরামর্শ সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে এই কার্যক্রমের বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে বিশদ আলোচনা চলছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব কামরুন নাহার জানিয়েছেন, প্রাথমিক অবস্থায় কয়েকটি নির্দিষ্ট জেলা বা উপজেলায় পাইলট বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা হবে। পরবর্তীতে এই কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে পর্যায়ক্রমে তা পুরো দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। কুড়িগ্রাম বা লালমনিরহাটের এক তরুণ নির্দিষ্ট কাজে দক্ষ।
এই পাইলট প্রকল্পের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনের উপস্থিতিতে আগামী মিটিংয়ে প্রকল্পটির বিষয়বস্তু ও বাস্তবায়নের সময়সীমা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নিবন্ধনের তারিখ বা সুনির্দিষ্ট এলাকার নাম চূড়ান্ত করা হয়নি।
এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের প্রধান লক্ষ্য হলো চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতার তথ্য এক জায়গায় আনা। এখানে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে উপযুক্ত পদ খুঁজে পাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব চাকরিপ্রার্থীর দক্ষতার ঘাটতি থাকবে, তাদের প্রশিক্ষণের জন্য যথাযথ সেন্টারে পাঠানোর ব্যবস্থাও রাখা হবে। প্রার্থীর দক্ষতা ও চাকরির চাহিদার মধ্যে মিল থাকাও জরুরি।
শ্রমবাজারের বর্তমান চিত্র ও চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই উদ্যোগটি হাতে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বর্তমানে বিভিন্ন খাতে কর্মীর চাহিদাবিষয়ক একটি জরিপ পরিচালনা করছে, যা এই নতুন ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করা হবে। বিআইডিএস-এর একটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে, দেশের ১০টি প্রধান শিল্প খাতে দক্ষ কর্মীর প্রায় ৩০ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে, যা প্রযুক্তিভিত্তিক পেশায় আরও প্রকট।
আইএলওর মার্চ ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে অনানুষ্ঠানিক খাতের আধিপত্য ও আংশিক বেকারত্ব বড় একটি সমস্যা। এর বাইরে বিশ্বব্যাংকের এপ্রিল ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের ধীরগতির কারণে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেটির কথা বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সরাসরি নতুন চাকরি তৈরি না করলেও, বিদ্যমান সুযোগগুলোর সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ঢাকার বাইরের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।
চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য বর্তমানে আরও কিছু উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ থেকে ২০ গ্রেডের ১০০টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং জাপানে উচ্চ বেতনের বৃত্তি (মাসিক প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা সমমূল্যের) অন্যতম। একই সাথে দীর্ঘ ১৬ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের দেওয়া ৬টি পরামর্শ চাকরি প্রার্থীদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ থেকে ২০ গ্রেডে চাকরি, পদ ১০০।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০