মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ধারাবাহিকতায় এবার জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই অভিযানকে “আগ্রাসনের শাস্তি” হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, জর্ডানের কিং হুসেন এবং আল আজরাক ঘাঁটিতে চালানো এই সমন্বিত হামলায় শত্রু পক্ষের যুদ্ধবিমান রাখার স্থানসহ প্রযুক্তিগত ও মেরামত অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। গত জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হওয়া এই তীব্র সংঘাত এখন নতুন মোড় নিয়েছে।
ইরানের এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী আটটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। উভয় পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের কোনো ঘাঁটিতেই কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। লারাক দ্বীপে গত রবিবারের মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তেহরান এই পাল্টা আঘাত হেনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে রবিবারের মার্কিন হামলাকে “আগ্রাসী কার্যকলাপ” হিসেবে অস্বীকার করেছে। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বাহিনীকে মাইন স্থাপন করা থেকে বিরত রাখতেই যুক্তরাষ্ট্র কেবল “সীমিত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ” গ্রহণ করেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ইরানকেই দায়ী করেছে। তবে ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা দাবি করেছে যে, মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ ওই হামলায় সেনা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সংঘাত এখন সপ্তম মাসে গড়িয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগের কৌশল বজায় রেখেছে, অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও তেল পরিবহন অব্যাহত রাখার দাবিতে অনড়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মারাত্মক অস্থিরতা তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের অনমনীয় অবস্থানের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে তাদের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টার জবাব তারা আরও বিধ্বংসী উপায়ে দিতে প্রস্তুত।






