
জর্ডানের কারাক গভর্নরেটের হামুদ গির্জায় ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি শেষকৃত্য অনুষ্ঠান চলাকালে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত এই হামলা চালায়। এতে অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের বেশিরভাগই বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার পর পরই হামলাকারীদের ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সাজেকে সংঘর্ষ / খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটিতে আধাবেলা অবরোধ, সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার দেশটির কারাক গভর্নরেটের হামুদ গির্জায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
দেশটির জননিরাপত্তা অধিদপ্তরের প্রধান মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ আল-মায়তা এক সংবাদ সম্মেলনে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিন আল ফারায়েহ এই ঘটনাকে উগ্রপন্থীদের কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। হামলাকারীদের পরিচয় বা বাইরের কোনো সংগঠনের সঙ্গে তাদের সংযোগ আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তেলের দাম বাড়ার পর কমেছে মোটরসাইকেল বিক্রি। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ঝুঁকিতে সবজি রপ্তানি। আজ টিভিতে যা যা দেখবেন (২৪ অক্টোবর, ২০২৬)। তবে জর্ডানের ভেতরে বা বাইরের পরিচিত কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে হামলাকারীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গির্জার নিরাপত্তা ক্যামেরার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনজন বন্দুকধারী ফুটপাত থেকে গির্জা লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে। তারা গাছ ও দেয়ালের আড়ালে অবস্থান নিয়ে গির্জার প্রবেশপথের দিকে এগিয়ে যায়। জর্ডানের মতো স্থিতিশীল দেশে এ ধরনের সহিংস ঘটনা বেশ বিরল। দেশটির সরকার এর আগেও একাধিক নাশকতার প্রচেষ্টা সফলভাবে নস্যাৎ করেছে। তারা গাছ ও নিচু দেয়ালের আড়ালে অবস্থান নেন। ভিডিওটি গির্জার নিরাপত্তা ক্যামেরার ধারণ করা হতে পারে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইহাব আম্মারিন জানান, হামলা চলাকালে গির্জায় বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কয়েক মিনিট ধরে চলা গুলিবর্ষণে রক্তাক্ত মানুষকে মেঝেতে লুটিয়ে পড়তে দেখা গেছে। এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও বর্ণনাতীত ছিল বলে জানান তিনি। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সেখানে মানুষ আতঙ্কে চিৎকার করছিলেন ও কাঁদছিলেন। বিষয়টি বর্ণনা করা কঠিন,’ বলেন তিনি।
জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ কারাক সফর করে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। জর্ডানিদের ঐক্যের বিরুদ্ধে বন্দুকের মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসানও এটিকে উগ্রবাদের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করে কঠোর নিন্দা জানান। জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘এটি সন্ত্রাসী মতাদর্শ ও অন্ধ উগ্রবাদের ফল।
এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বার্তায় এই সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, উপাসনালয় এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উল্লেখ্য, জর্ডানে খ্রিষ্টান জনসংখ্যার উপস্থিতি রয়েছে এবং দেশটিতে বাইবেলে উল্লেখিত বহু ঐতিহাসিক স্থান থাকায় তীর্থযাত্রীরা নিয়মিত ভিড় করেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পর জর্ডানও হামলার শিকার হওয়া মার্কিন মিত্র দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। ইরানে আবারও সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত ট্রাম্পের।
বর্তমান এই হামলার প্রেক্ষিতে দেশটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকায় পুরোনো রমনা থানার কাছে ককটেল বিস্ফোরণ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০