খুলনার মিয়াপাড়া-টুটপাড়া এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ, ১০০ গজ গলির মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২০ জনের বেশি , আতঙ্কে নগরবাসী
খুলনা প্রতিনিধি। খুলনা মহানগরীর মিয়াপাড়া ও টুটপাড়া এলাকায় দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। বিশেষ করে মিয়াপাড়া নতুন রাস্তা ও শহীদ আজমল হোসেন সড়কসহ আশপাশের বিভিন্ন মহল্লার অলিগলিতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মিয়াপাড়া নতুন রাস্তা ও শহীদ আজমল হোসেন সড়ক এলাকায় বর্তমানে প্রায় ২০ জনের বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। শুধু ওই এলাকাই নয়, আশপাশের বিভিন্ন মহল্লায়ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অনেক পরিবারে একাধিক সদস্য জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
নগরবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানি, অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নোংরা রাস্তাঘাট ও ড্রেনের কারণে এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, খুলনা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও অনেক এলাকায় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। পাশাপাশি বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা ও বিভিন্ন পাত্রে পানি জমে থাকায় এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নগরবাসীকেও নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নগরীতে মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ড্রেন ও জলাবদ্ধ স্থান পরিষ্কার এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো জরুরি।
তাদের প্রত্যাশা, সিটি করপোরেশন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও নগরবাসী সম্মিলিতভাবে কাজ করলে মিয়াপাড়া-টুটপাড়াসহ পুরো খুলনা নগরীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এই পরিস্থিতি থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে প্রশাসনের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।






