
‘মানুষ দেখি। পৃথিবীর সুস্থদের দিকে তাকাই গভীর ঈর্ষা নিয়ে।’ চূড়ান্ত সাহার আঁকা একটি ক্যানভাসে লেখা এই পঙ্ক্তিগুলো যেন তার বর্তমান জীবনের বাস্তবতার এক করুণ প্রতিচ্ছবি। একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজপথ, সাংস্কৃতিক আয়োজন আর মঞ্চে সরব থাকা এই তরুণ এখন লড়ছেন বিরল এক ক্যানসারের বিরুদ্ধে। শারীরিক অসুস্থতা তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অনেকখানি কেড়ে নিলেও, কবিতা লেখা, ছবি আঁকা কিংবা মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার প্রবল ইচ্ছা তাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। বিশ্লেষণ / সৌদি বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ। রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হামলা, বিস্ফোরণের শব্দ ও অগ্নিকাণ্ড। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘ফিশন বিক্রিয়া’ শুরু। কবিতার পত্রিকা প্রকাশ, গণকৃষ্টি প্রতিষ্ঠা এবং ‘স্বর্ণবোয়াল’ ও ‘নিমজ্জন’-এর মতো নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিতি পান।
২০২৪ সালের অক্টোবরে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর থেকে দুই বছরের আঁকা ৬৩টি ছবি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় কবি ও মঞ্চ অভিনেতা চূড়ান্ত সাহার একক চিত্রপ্রদর্শনী ‘দেয়ালজুড়ে সাদা নৈঃশব্দ্য’। জহির রায়হান মিলনায়তনে আয়োজিত এই তিন দিনের প্রদর্শনীতে চিত্রকর্মের পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি ও চ্যারিটি কনসার্টের আয়োজন ছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী চূড়ান্ত মূলত একজন কবি ও গদ্যকার। ২০১৯ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বৈকুণ্ঠ হঠাৎ করে চিৎকার করে—কেউ আছো?’ এবং ২০২৫ সালে দ্বিতীয় বই ‘পরোক্ষ যাত্রী ও তিনটি কবিতা’ প্রকাশিত হয়। মেসির দৃষ্টিতে ভবিষ্যৎ ফুটবলের সেরা ১০ তারকা। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আঁকা ৬৩টি ছবি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছে কবি ও মঞ্চ অভিনেতা চূড়ান্ত সাহার একক চিত্রপ্রদর্শনী ‘দেয়ালজুড়ে সাদা নৈঃশব্দ্য’।
ক্যানসারের প্রভাবে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং চোয়াল অসাড় হয়ে যাওয়ার মতো শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তীব্র ক্লান্তি তাকে দীর্ঘ সময় লেখালেখি থেকে দূরে রাখলেও, ছবি আঁকা তার অনুভূতির প্রকাশের নতুন মাধ্যম হয়ে ওঠে। চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরুর মণিপাল হাসপাতাল, ভেলোরের সিএমসি এবং চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো প্রোটন ক্যানসার সেন্টারে অপেক্ষার সময় তিনি স্কেচ ও টাইপোগ্রাফি তৈরি করতেন। তার ‘তিতা স্বাদ’ নামক বিমূর্ত চিত্রকর্মটি প্রথম কেমোথেরাপির পরবর্তী তিক্ত অভিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ, যা তার জীবনসংগ্রামের নানা দিক তুলে ধরে।
আয়োজক দলের সদস্য মাইমুনা জানান, এই প্রদর্শনী চূড়ান্ত সাহার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টারই একটি অংশ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে সাইনোনাসাল ক্যানসার ধরা পড়ার পর থেকে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য লড়াই করছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপির মধ্য দিয়ে গেলেও টিউমারের বৃদ্ধি ও শারীরিক দুর্বলতায় পরবর্তী চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শিল্পচর্চার পাশাপাশি চূড়ান্তর চিকিৎসার জন্য সহযোগিতাও চেয়েছেন আয়োজকেরা।
চূড়ান্ত মনে করেন, আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে একজন অসুস্থ মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া অত্যন্ত নির্মম। তার ছবিতে কেবল ব্যক্তিগত যন্ত্রণাই নয়, বরং সামাজিক বাস্তবতা ও বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে। ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার আগে তিনি পাহাড়ি অঞ্চলের চা-শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন, যা আজও তার শিল্পভাবনায় অম্লান। বর্তমানে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন চূড়ান্তের এই শিল্প প্রয়াস কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও পৃথিবীকে অনুভব করার এবং নিজের ভাষায় কথা বলে যাওয়ার একটি সাহসী দলিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে রয়েছে শামীম হত্যা মামলার তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা, র্যাগিংয়ের দায়ে ২০ শিক্ষার্থীর জরিমানা এবং জাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গবেষণাপত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের তদন্ত কমিটি গঠন সংক্রান্ত কার্যক্রম। ক্যাম্পাসের চলমান অস্থিরতা ও নানামুখী লড়াইয়ের মধ্যেই চূড়ান্তের মতো শিক্ষার্থীদের বেঁচে থাকার আকুতি ও শিল্পচর্চা এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: পায়েল হোসেন রিন্টু,
মেইল: bdnewspost5@gmail.com
মোবাইল: 01713814445
২৮-সি-৪ শাকের প্লাজা, লেভেল-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০