যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কাতারের কাছে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। এই চুক্তির আওতায় কাতার চারটি কেসি-৪৬এ (KC-46A) আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং সংশ্লিষ্ট আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সংগ্রহের সুযোগ পাবে। মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই চুক্তির তালিকায় চারটি বিমানের পাশাপাশি আটটি পিডাব্লিউ৪০৬২ (PW4062) টার্বোফ্যান ইঞ্জিন, ১০টি এএন/এএলআর-৬৯এ (AN/ALR-69A) রাডার সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, ১৫টি গার্ডিয়ান লেজার ট্রান্সমিটার এবং আটটি এলএআইআরসিএম (LAIRCM) সিস্টেম প্রসেসর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, লজিস্টিক সহায়তা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও এই প্যাকেজের অংশ হিসেবে থাকবে। এই প্রকল্পের প্রধান মার্কিন ঠিকাদার হিসেবে বোয়িং, প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি মিলিটারি ইঞ্জিনস, আরটিএক্স করপোরেশন এবং নর্থরপ গ্রুম্যান কাজ করবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্যমতে, এই সামরিক সরঞ্জাম কাতারকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিভিন্ন আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী করে তুলবে। কাতারকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কৌশলগত আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে অভিহিত করে বলা হয়েছে, এই চুক্তির ফলে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর সঙ্গে কাতারের সামরিক সমন্বয় ও সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও দেশটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেসি-৪৬এ বিমানটি মূলত আকাশে অন্য যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহের জন্য তৈরি, যা পুরনো কেসি-১৩৫ বিমানের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি এতে কার্গো পরিবহন এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার সুবিধাও রয়েছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবহৃত বিমান নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই এই সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ঘোষণাটি এল। ট্রাম্প গত জুলাই থেকে নতুন এই জেটটি ব্যবহার শুরু করেছেন এবং বিমানটির সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী চারটি পর্যন্ত কেসি-৪৬-এ বিমান এবং এসব বিমানের জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম রয়েছে।






