দীর্ঘদিন বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরান অভিযোগ করেছে যে, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় পাঁচজন নিহত এবং কয়েক ডজন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, মঙ্গলবার তারা ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিভিন্ন স্থাপনায় অভিযান চালিয়েছে। এই হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক সরঞ্জাম, মাইন পেতে রাখার সক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হরমুজ প্রণালির আশপাশের এলাকাগুলোতেও একাধিক হামলা চালানো হয়েছে, যা এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, সিরিকের উপকূলীয় এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানে চালানো হামলায় পাঁচজন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছেন। মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। অন্যদিকে, প্রাদেশিক এক কর্মকর্তার বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আহতের সংখ্যা ৬৮। এ বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই ঘটনাকে ধারাবাহিক নৃশংসতার অংশ হিসেবে অভিহিত করে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর আগে মিনাবের একটি মেয়েদের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬০ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও তারা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, পুরোনো লক্ষ্যবস্তু-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহারের কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা হয়ে থাকতে পারে।
পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, জর্ডানে হামলায় বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা প্রাথমিক মূল্যায়নে কোনো সেনা হতাহতের তথ্য পাননি। জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে, যার মধ্যে ১০টি ভূপাতিত করা হয় এবং তিনটি জনশূন্য এলাকায় পড়ে। বাহরাইনও ইরানের ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে।
এছাড়া উত্তর ইরাকের এরবিলে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। তবে ইরাক বা যুক্তরাষ্ট্র কেউই এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
বর্তমান সংঘাতের ফলে ইরানের অর্থনীতি আরও চাপের মুখে পড়েছে। দেশটিতে এক ডলারের বিনিময় মূল্য ২০ লাখ রিয়ালে পৌঁছেছে এবং নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় অর্থনীতি বিপর্যস্ত। অন্যদিকে, নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ সামলাতে হচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়ায় তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট।
ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে এর জবাব আরও কঠোর ও ধ্বংসাত্মক হবে। কোনো দেশ মার্কিন বাহিনীকে সহযোগিতা করলে তাদেরও বিপজ্জনক পরিণতি ভোগ করতে হবে। উল্লেখ্য, এর আগে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে ৭১ কোটি টাকার সরকারি কাজ এবং ১৯৭৩ সালে ১৩০ টাকা থেকে শুরু হওয়া পে-স্কেল বর্তমানে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার মতো বিষয়গুলোও দেশের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় রয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের যুদ্ধের শঙ্কা দেখছে না, তবে ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করেছে। দুই পক্ষই কঠোর হুমকি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে রাখায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় নিহত ৫, জবাবে জর্ডান-ইরাক-বাহরাইনে পাল্টা আঘাত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মেসির বিদায়ের পর জাতীয় দল ছাড়ার ভাবনায় পারেদেস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই সরু জলপথ দিয়ে অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে হামলার হুমকি দিয়ে আসছে ইরান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশটির গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বাহরাইনেও হামলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্য দিয়ে এমন এক বিরতি শেষ হলো, যে সময়ে দুই পক্ষই হামলা কমিয়ে দিয়েছিল, তবে আলোচনায় ফেরার ব্যাপারে কেউ খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই বিরতির সময় সংঘাতের প্রভাব দুই পক্ষের ওপরই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রয়টার্স গত মাসে জানিয়েছিল, মার্কিন সেনাবাহিনী বিশ্বজুড়ে মজুত থাকা অত্যন্ত নির্ভুল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বড় একটি অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।






