বাংলা সাহিত্যের প্রথিতযশা লেখক ও চিন্তক আহমদ ছফার জীবনদর্শন এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্কের আখ্যান নিয়ে মঞ্চস্থ হলো আবৃত্তি প্রযোজনা ‘একটি প্রবীণ বটের কাছে প্রার্থনা’। বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি মিলনায়তনে এই পরিবেশনাটি অনুষ্ঠিত হয়। চারুকণ্ঠ আবৃত্তি সংসদের আয়োজনে এই প্রযোজনাটি দেখতে মিলনায়তনে দর্শক সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রযোজনাটির গ্রন্থনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন আনোয়ার পারভেজ। এতে আবৃত্তি পরিবেশনায় অংশ নিয়েছেন জি এম মোর্শেদ, ফারজানা রোজী, পদ্মাবতী দেবী, সুলতানা পারভীন শিমুল, সাফিন মুরাদ এবং নির্দেশক নিজে। মঞ্চ পরিকল্পনা, আবহসংগীত ও আলোকবিন্যাসের দায়িত্বে ছিলেন ওয়াহিদ আনসার হিল্লোল। এছাড়া আলোক প্রক্ষেপণে কাইসুর রহমান, আলোকচিত্রে জুলকার নাঈন এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিল সমীর সাউন্ড। পুরো আয়োজনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী।
প্রযোজনাটির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে নির্দেশক আনোয়ার পারভেজ জানান, আহমদ ছফার নিজ গ্রামের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত একটি বটগাছকে কেন্দ্র করেই এই কাব্যগ্রন্থটি রচিত। তিনি বলেন, “একটি প্রবীণ বৃক্ষ সব প্রতিকূলতা জয় করে মহাকালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। মানবজীবনের সংগ্রাম, স্বপ্ন, প্রেম, বেদনা ও দেশের পালাবদলের সাক্ষী এই বৃক্ষ। আহমদ ছফা যেমন তার কবিতায় ‘একটি প্রবীণ বটের কাছে প্রার্থনা’ করেছেন, তেমনই আমরা তার কবিতা উচ্চারণের মধ্য দিয়ে অন্ধকারকে জয় করে জীবনের জয়গান গাইতে চেয়েছি এই আবৃত্তি প্রযোজনায়।”
চারুকণ্ঠ আবৃত্তি সংসদের সভাপতি অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী বলেন, “আহমদ ছফা ছিলেন একজন বহুমুখী লেখক, যিনি জীবনকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করতেন। তার প্রকাশভঙ্গির স্বাতন্ত্র্য তাকে বাংলা সাহিত্যে অমর করে রেখেছে। তার এই কাব্যগ্রন্থের বিষয়বস্তুর গভীরতা আমাদের সবসময় তাড়িত করে। তাই তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবেই এই আবৃত্তি আলেখ্য মঞ্চস্থ করা হয়েছে।”
প্রকৃতির নানা রূপ ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মানুষের টিকে থাকার আকাঙ্ক্ষা, অভিজ্ঞতা এবং মাটির সঙ্গে তার গভীর বন্ধনই এই প্রযোজনার মূল উপজীব্য। আবৃত্তি ও মঞ্চভাষার সমন্বয়ে আহমদ ছফার দার্শনিক চিন্তাধারাকে দর্শকের সামনে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে চারুকণ্ঠ আবৃত্তি সংসদ।






