যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের আসন্ন সিনেট নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ ও অনুমোদন (সার্টিফিকেশন) আটকে দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন করে আইনি পথে হাঁটছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যার ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে বৃহস্পতিবার দেশটির বিচার বিভাগ একটি সংশোধিত মামলা দায়ের করেছে। দেশটির সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের একটি এটি। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময় কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট কোন দলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা এই নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করছে।
বিচার বিভাগের অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে একই নামের আরেক প্রার্থীকে নির্বাচনে দাঁড় করিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। আলাস্কার এই সিনেট আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সিনেটে রিপাবলিকানদের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে এটি একটি বড় ফ্যাক্টর। বর্তমানে ১০০ সদস্যের সিনেটে ৫৩টি আসন নিয়ে রিপাবলিকানরা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছে। সংশোধিত মামলায় তারা লিখেছেন, ‘আলাস্কার ভোটারদের বিভ্রান্ত করা এবং পেলটোলাকে নির্বাচিত করার উদ্দেশ্যেই তারা ওই প্রার্থীর সাজানো প্রচার অভিযান পরিচালনা করেছেন।’। একই নামের দুই প্রার্থীকে ঘিরে ভোটারদের বিভ্রান্তি কমাতে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে অঙ্গরাজ্যটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।
আলাস্কার বর্তমান সিনেটর ড্যান এস সুলিভান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তার বিপরীতে আসনটি দখলে নিতে লড়ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা। অভিযোগ রয়েছে, পেলটোলার প্রচার দলের সদস্যরা ‘ড্যান জে সুলিভান জুনিয়র’ নামের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে নির্বাচনে প্রার্থী হতে উৎসাহিত করেছিলেন, যাতে বর্তমান সিনেটর সুলিভানের ভোট ভাগ হয়ে যায়।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন প্রকাশের পরই ট্রাম্প প্রশাসন এই নতুন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মামলার অংশ হিসেবে বিচার বিভাগ ৪০টি সমন জারি করেছে এবং প্রাসঙ্গিক নথিপত্র সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুলিভান পরাজিত হলে নির্বাচনের ফলাফল যাতে অনুমোদন করা না হয়, তা নিশ্চিত করাই এই মামলার মূল লক্ষ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে মেরি পেলটোলার নির্বাচনী শিবির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আলাস্কার গভর্নর মাইক ডানলিভি একটি ফৌজদারি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচার বিভাগের আইনজীবীরা পেলটোলা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পরিকল্পিত কৌশল বা ‘ব্যালট স্ট্যাকিং’-এর অভিযোগ এনেছেন।
এই ইস্যুতে সাংবিধানিক জটিলতাও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনার পুরো দায়ভার সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর। তবুও ফেডারেল সরকারের এই হস্তক্ষেপ নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গত জুনে আলাস্কার সুপ্রিম কোর্ট ড্যান জে সুলিভান জুনিয়রকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বৈধতা দিয়েছিলেন, যা নির্বাচনের মাঠে একই নামের জটিলতা তৈরি করে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চূড়ান্ত ভোটের ফল আসার আগে ভোটারদের প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুমান করা প্রায় অসম্ভব। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে বিচার বিভাগে কর্মরত জাস্টিন লেভিট এই মামলার আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, কোনো ফেডারেল আইন লঙ্ঘনের স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া বিচার বিভাগের তদন্ত চালানোর এখতিয়ার নিয়ে তিনি সন্দিহান। তার মতে, রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় আসার জন্যই এই তদন্তের আয়োজন করা হয়েছে। এমন কোনো বিষয় থাকলেই কেবল বিচার বিভাগের এ বিষয়ে তদন্তের এখতিয়ার থাকতে পারে।’। তিনি আরো বলেন, ‘এতে মনে হচ্ছে, তদন্তের মূল উদ্দেশ্যই হলো আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসা।’।
ট্রাম্প নিজেও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে আগাম প্রশ্ন তুলে রেখেছেন।
তিনি অতীতে কোনো প্রমাণ ছাড়াই ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ এনেছেন এবং আসন্ন নির্বাচনে তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ফল মেনে না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়াসহ অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের ভোটপ্রক্রিয়া নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসন আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা অবশ্য জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের প্রতি জনঅনাস্থার সুযোগ নিয়ে আসন বাড়ানোর প্রত্যাশায় মরিয়া হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।






