গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সরকারের উচিত জনগণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। বুধবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের নাবিস্কো মোড়ে ১১-দলীয় ঐক্য আয়োজিত এক গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিলি কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এ আহ্বান জানান। আগামী শনিবার অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সেলিম উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ, সার ও গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দলটির নিজেদের কর্মীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। দলীয়করণের মাধ্যমে আট মাসে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় সংকট তৈরি করেছে। তিনি দেশে যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানিয়ে এগুলোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন। অতীতে দলীয়করণ হলেও মাত্র আট মাসে যেভাবে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে, তা দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসকে নতুনভাবে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
হাসপাতালে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দায়সারাভাবে একজন সংসদ সদস্যকে সরিয়ে দিলেই ঘটনার নিষ্পত্তি হয় না। বরং উল্টো জনগণের সমস্যার কথা তুলে ধরায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি অবিলম্বে আখতারুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন এবং অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
লংমার্চের পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বৃহত্তর কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামবে তারা। তিনি দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং দেশে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তেজগাঁও উত্তর থানা আমির আহসান উল্লাহর সঞ্চালনায় এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন ও আতাউর রহমান সরকার। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, কলিম উল্লাহ এবং নাসিফুল হক নাসিফসহ অন্যান্যরা। লংমার্চ সফল করতে তিনি সর্বস্তরের জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তেজগাঁও উত্তর থানা আমির (২৫ নম্বর ওয়ার্ড) আহসান উল্লাহর পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন ও আতাউর রহমান সরকার। ক্ষমতায় এসে জনগণের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তারা। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।






