সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দুইটি ম্যাচে হারের পর বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিকেটপ্রেমীদের বড় একটি অংশ জাতীয় দলকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ভক্তদের অনেকেই উপহাস করে দলকে ‘শপিং টিম’ বা ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল টিম’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। তাদের অভিযোগ, ক্রিকেটাররা বড় অংকের বেতন ও সব ধরনের সুবিধা পেলেও ম্যাচে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষুধা বা মানসিক দৃঢ়তার অভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের পর টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ের ঠিক আগ মুহূর্তে ক্রিকেটারদের দুবাইয়ের শপিং মলে কেনাকাটায় মত্ত দেখা যাওয়া নিয়ে তুমুল আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচের পূর্বে অনুশীলনে মনোযোগ না দিয়ে শপিং মলে সময় কাটানোর এমন খবরে ফের শুরু হয় ভক্তকূলের সমালোচনা।
তবে দলের পারফরম্যান্স শপিংয়ের কারণে ডুবছে—এমন দাবি মানতে নারাজ জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ সাধারণত প্রথমে ব্যাট করে ২৮০ থেকে ২৯০ রান তুলতে পারলে জয় পায়। কিন্তু ২৫০ বা তার চেয়ে বেশি রান তাড়া করতে গেলেই দল বড় বিপদে পড়ছে। আফ্রিকার কন্ডিশনে আসন্ন বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে ৩০০ রান তাড়া করার সক্ষমতা অর্জন করাই মূল চ্যালেঞ্জ। পরিসংখ্যান বলছে, শেষ ২০ ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ ১০টিতে জয় পেয়েছে এবং ১০টিতে হেরেছে। তবে রান তাড়া করতে গিয়ে জয়ের হার বেশ কম, মাত্র সাতটি ম্যাচে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৬০ রানে অলআউট এবং আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৭১ রান তাড়া করতে গিয়ে ১৭২ রানে থেমে যাওয়াই এর প্রমাণ। তিনি বলেন, ‘পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে আমরা প্রথমে ব্যাটিং করে ২৮০ থেকে ২৯০ রান তুললে ম্যাচগুলো জিতি। আফ্রিকার কন্ডিশনে হতে যাওয়া বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করলে ৩০০ রান তাড়া করার প্রস্তুতি আমাদের থাকতে হবে। সবশেষ ২০ ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ দল ১০টি ম্যাচে জিতেছে ও হেরেছে সমান সংখ্যক। এটা চাপের কারণে নাকি স্কিলের ঘাটতি, সেটা চিহ্নিত করাই আমাদের লক্ষ্য। শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং ব্যর্থতার শিকার হয়ে ৪১.২ ওভারে ১৬০ রানে অলআউট হয়ে সাত উইকেটে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৭১ রান তাড়া করতে নেমে ১৭২ রানে অলআউট হয়ে ৯৯ রানে পরাজিত হয় দলটি। এই ম্যাচেও ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে। প্রধান নির্বাচক সমস্যাটি অনুধাবন করেছেন। যে কারণে মনোবিদদের কাছে ক্রিকেটারদের পরামর্শ নেয়ারও জোর দাবি উঠেছে। বাশার বলেন, ‘আমরা সমস্যাগুলো বের করেছি।
বাশারের মতে, ব্যাটিং লাইনের এই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে আগামী ছয় মাস বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হবে। সম্প্রতি ওডিআই ফরম্যাটে দলের পারফরম্যান্স হতাশাজনক হলেও টেস্টে ব্যাটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি আশাবাদী। ওপেনিং জুটির ব্যর্থতা এবং ব্যাটিংয়ের কৌশলগত সমস্যা দলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবশেষ ২০ ম্যাচে ব্যাটাররা ১১১ বার ক্যাচ আউট হয়েছেন, যা তাদের শট সিলেকশন এবং মানসিক স্থিরতার ঘাটতি নির্দেশ করে। এছাড়া ২৩ বার বোল্ড এবং ১৫ বার এলবিডব্লিউ হওয়ার ঘটনা স্পিনারদের টার্ন বা পেসারদের সুইং বুঝতে না পারার বিষয়টি সামনে এনেছে। ভুল বোঝাবুঝিতে ১১ বার রান আউট হওয়ার ঘটনাও দলের চাপের মুখে মানসিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজনে মনোবিদের পরামর্শ নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি। সমস্যা দূর হলে দল ঘুরে দাঁড়াবে বলে তার বিশ্বাস। বাশার বলেন, ‘টেস্টে ব্যাটাররা নিয়মিত রান করছে এবং পুরো ব্যাটিং ইউনিট ভালো মনে হচ্ছে।
দল নির্বাচন নিয়ে ওঠা বিভিন্ন গুঞ্জন ও অভিযোগের বিষয়েও খোলাখুলি কথা বলেছেন হাবিবুল বাশার। নির্বাচকরা স্বাধীনভাবে দল গঠন করতে পারছেন না বা প্রধান নির্বাচককে সরানোর চেষ্টা চলছে—এমন সব খবরকে তিনি কেবল গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সৌম্য সরকারকে দলে না রাখার সিদ্ধান্তের পেছনে তার পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টিই একমাত্র কারণ ছিল বলে জানান তিনি। বাশার আরও বলেন, যখন কোনো দল টানা হারে, তখনই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বা নেতিবাচক আলোচনা ডালপালা মেলে। জয়ের ধারায় থাকলে কেউ এমন সমালোচনা করে না। নির্বাচক হিসেবে তারা পুরোপুরি স্বাধীন এবং ক্রিকেটারদের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা ও ভরসা রয়েছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। গুঞ্জন রয়েছে- প্রধান নির্বাচককেও সরিয়ে দিতে তৎপর একটি পক্ষ।






