অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ পরিচালনার ঘটনায় সৃষ্ট বিতর্কের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে এবং ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য সোমবার সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
নিজের ফেইসবুক স্ট্যাটাসে ইশরাক হোসেন উল্লেখ করেছেন, সোমবার দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলেও পোস্টে জানিয়েছেন।
এর আগে শনিবার বিকেলে নিজের ফেইসবুক পেইজে গেণ্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন ইশরাক। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে তাকে অস্ত্র হাতে অভিযানে সরাসরি অংশ নিতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
অস্ত্র হাতে একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন অভিযান নিয়ে তুমুল বিতর্কের পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন ডিএমপির ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটি দেখা হয়েছে এবং স্থানীয় ডিসিকে পুরো ঘটনার পর্যবেক্ষন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটলে ডিএমপি যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে সেদিন জানিয়েছিলেন ডিবিপ্রধান। অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর এ অভিযান ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হওয়ার পরদিন ডিএমপির ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, “আপনারা যেটা দেখেছেন, আমরাও দেখেছি।
এদিকে নিজের পোস্টে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন কিছুটা আক্ষেপের সুরে লিখেছেন, কিছু ‘সুশীল’ ব্যক্তি তার ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে উল্লাস প্রকাশ করছেন। তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে এই ব্যক্তিরা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।






