রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের নামাপাড়া দুর্গামন্দিরে দুর্গোৎসবের আরতি দেওয়ার সময় অর্চনা রানী (৫৫) নামের এক নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। গত রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মন্দির প্রাঙ্গণে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, অর্চনা রানী দর্শকসারি থেকে উঠে গিয়ে বাদ্যযন্ত্রীদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, তিনি গান করবেন এবং নাচবেন। আরতি শুরু করার ঠিক পরপরই তিনি মাথা ঘুরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। একপর্যায়ে বাদ্যযন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন ‘ভালো করে বাজাও। বাদ্যযন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেই দর্শকসারি থেকে উঠে দুর্গাপ্রতিমার সামনে আরতি দিতে যান অর্চনা রানী। ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অর্চনা রানী নিয়মিতই প্রতিবছর দুর্গাপূজার সময় আরতি দিয়ে আসছিলেন। তাঁর প্রতিবেশী মালা রানী ও জগদীশ রায় জানান, মন্দিরে আরতি উপভোগ করার সময় তিনি নাচ ও গানের ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত আরতি দেওয়ার সময় একপাক ঘুরতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অর্চনা রানীর স্বামী গোপাল চন্দ্র সরকার জানান, তাঁর স্ত্রীর উচ্চ রক্তচাপজনিত শারীরিক সমস্যা ছিল এবং সারাদিন তিনি উপবাস থাকার ফলে শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন। গোপাল চন্দ্র স্থানীয় একটি হোটেলের কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন।
এই দম্পতির চার মেয়ের মধ্যে বড় তিনজনের বিয়ে হয়েছে এবং ছোট মেয়ে স্বপ্না রানী স্থানীয় একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ছে। মন্দির কমিটির সভাপতি নিত্যেন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানিয়েছেন, উৎসবের মাঝে এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। ঘটনার পরপরই মন্দিরে সব ধরনের পূজা ও উৎসবের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আজ সোমবার দুপুরের পূর্বেই তাঁর মরদেহ সমাধিস্থ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার অভিযোগ না থাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্বাভাবিকভাবে এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকাজুড়ে শোক বিরাজ করছে।






