কুমিল্লায় জামায়াতে ইসলামীর মহানগর কার্যালয় প্রাঙ্গণে দলটির মহানগর সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এবি পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়। পরে তাঁরা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এলে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কুমিল্লা শহরের মোগলটুলী এলাকার ফারুকিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত জামায়াতের মহানগর কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুর চালানো হয়। স্থানীয় নেতাদের ভাষ্যমতে, জামায়াতে ইসলামীর মহানগর কমিটি গঠন ও আমির নির্বাচন নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত হয়। সেই সময় কার্যালয়ের ভেতরে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুমসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দলের নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হক মামুনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে এই ঘটনায় হট্টগোল করার অভিযোগ উঠেছে। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ কে এম এমদাদুল হক মামুনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখ ঢাকা এক ব্যক্তি ভারী বস্তু দিয়ে জামায়াতের মহানগর সেক্রেটারির গাড়িতে একের পর এক আঘাত করছেন। কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল দাবি করেন, ভিডিও ফুটেজে গাড়ি ভাঙচুরকারী ব্যক্তি হিসেবে এবি পার্টির কুমিল্লা মহানগর আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের পর দলের কেন্দ্রীয় কমিটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। গাড়িটির চারপাশে ঘুরে ঘুরে তিনি আঘাত করেন। কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের বিষয়ে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত নেবেন।’।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন গোলাম মোহাম্মদ সামদানী। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ব্যক্তিগত কাজে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে ছিলেন। স্ট্রোক করা অসুস্থ বাবার চিকিৎসার প্রয়োজনে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত তিনি হাসপাতালের পুরোনো ও নতুন ভবনে অবস্থান করছিলেন। সামদানী পাল্টা প্রশ্ন রাখেন যে, সিসিটিভি ফুটেজে থাকা ব্যক্তি যদি তিনিই হতেন, তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জামায়াত নেতারা তাঁকে তৎক্ষণাৎ আটক করলেন না কেন। তাঁর মতে, জামায়াতের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে অহেতুক তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। এ সময় কয়েকজন তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি গাড়ির কাচ ভাঙতে থাকেন। প্রথমে হাসপাতালের পুরোনো ভবনের তৃতীয় তলায় এবং পরে নতুন ভবনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যান।
অতীতে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে সামদানী বলেন, ‘আমি ছাত্রশিবির করে বড় হয়েছি, এখন সেই সংগঠনের লোকজনই আমার বিরুদ্ধে অপবাদ দিচ্ছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ছাত্রশিবির করার অপরাধে তাঁর বাবা অতীতে একটি চোখ হারিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি এবি পার্টির কুমিল্লা মহানগর আহ্বায়কের পাশাপাশি কুমিল্লা মহানগর ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করছেন।
এবি পার্টির কুমিল্লা জেলার আহ্বায়ক মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, জামায়াতের কার্যালয়ের ঘটনায় সামদানীর সম্পৃক্ততার খবর দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুকে জানানো হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। এছাড়া জামায়াতের অভ্যন্তরীণ কোনো জটিলতায় এবি পার্টির কুমিল্লা জেলা বা মহানগর শাখা কোনোভাবেই জড়িত নয় বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো কাজ করলে তার দায় সংগঠন নেবে না। কেউ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে এমন কিছু করে থাকলে তার দায় দল বহন করবে না।
কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের আগে শোকজ নোটিশ প্রদান করা হবে এবং যথাযথ নিয়ম মেনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, বুধবারের এই ভাঙচুরের ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






