সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি
- সরকারি চাকরিজীবী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া ও বেতন সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য।
- বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া।
- সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় রাবি প্রক্টর ও অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি।
- বিশ্ব বসতি দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
- ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমান প্রত্যাহার ও কিয়েভ-মস্কো-ওয়াশিংটন বৈঠক।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার ও উন্নয়ন পরিচালনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বাহিনীর নাম দিয়েছেন ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ (এসআইএফ)। এই গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বর্তমান জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি প্রযুক্তিটিকে ‘নকল’ বা ‘কৃত্রিম’ বলে মনে করায়।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এআই সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং এ প্রযুক্তির উন্নয়নে বৈশ্বিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করাই এই নতুন বাহিনীর অন্যতম লক্ষ্য। এছাড়া সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে এআই-সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয় সাধনের দায়িত্বও থাকবে এসআইএফের ওপর। এই টাস্কফোর্স ভোক্তা অধিকার সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাতা এবং বড় এআই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের যোগাযোগ ব্যবস্থা তদারকি করবে।
এই টাস্কফোর্সে জে ক্লেটনের পাশাপাশি ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পারসোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপার সদস্য হিসেবে থাকছেন। এসআইএফ সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের কাছে রিপোর্ট করবে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ শব্দের বদলে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ (এসআই) ব্যবহারের নির্দেশ দেন। সরকারি ওয়েবসাইট ও নথিপত্রে এই নতুন পরিভাষা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক অবশ্য একে সমর্থন জানিয়েছেন এবং নিজের প্রতিষ্ঠানের এআই প্ল্যাটফর্মের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগের সঙ্গে এআইয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও যুক্ত রয়েছে। রোববার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তার প্রতিষ্ঠানের এআই প্ল্যাটফর্ম ‘স্পেসএক্সএআই’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেসএক্সএসআই’ করা হবে। গত আগস্টে তিনি এ পদে যোগ দেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। গত ৪ অক্টোবর এক সাক্ষাৎকারে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বলেন, এআইয়ের সম্ভাব্য সুবিধা এত বেশি যে কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়া যেতে পারে।
জে ক্লেটন এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত আগস্ট থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন। সিনেটের শুনানিতে এআইকে সুযোগ ও হুমকি উভয় হিসেবে চিহ্নিত করে ক্লেটন একে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘যখন কোনো কিছু একইসঙ্গে সুযোগ ও হুমকি—তখন সেটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’।
এদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করেছেন। তার মতে, এআই প্রযুক্তির জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসন এখনও পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারেনি। তিনি ক্লেটনের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যাতে চীন বা অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের তুলনায় এআই নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে থাকতে পারে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরাও এই প্রযুক্তির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছেন। স্যাম অল্টম্যানের মতো শীর্ষ ব্যক্তিরা ঝুঁকি মেনেও প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের পক্ষে কথা বলেছেন। তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত এআই খাতের ওপর অতিরিক্ত সরকারি বিধিনিষেধের বিরোধিতা করে আসছেন এবং কোম্পানিগুলোকেই স্ব-নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছেন। এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।
এআই খাতের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করে ট্রাম্প প্রশাসন একে চীনের সাথে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে দেখছে। এর আগে ডেভিড স্যাকস এআই সংক্রান্ত বিশেষ জার হিসেবে কাজ করে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে দায়িত্ব শেষ করেন। এরপর থেকেই নতুন নিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে ক্লেটনকে এই বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হলো।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা, অপেক্ষায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।






