প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সুখু ও দুখুর চরিত্র ও আচরণের তুলনামূলক বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই বোন স্বভাবের দিক থেকে একে অপরের সম্পূর্ণ বিপরীত। দুখু ছিল অত্যন্ত পরিশ্রমী, যে সারাদিন ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকত এবং বাবার সুতা কাটার কাজে সহায়তা করত। এর বিপরীতে সুখু ছিল অলস, যার দিন কাটত শুধু বসে বসে খেয়ে। দুখুর মনে ছিল দয়া ও পরোপকারের বালাই, অন্যদিকে সুখু ছিল চরম স্বার্থপর ও অহংকারী। দুখুর এই সরলতা ও সততার কারণেই সে পুরস্কার পেয়েছে।
সুখুর করুণ পরিণতির প্রধান কারণ ছিল তার সীমাহীন লোভ ও উদ্ধত আচরণ। সে বুড়ির বাড়িতে গিয়েছিল কেবল সম্পদ লাভের আশায়। পথে অসহায় কলাগাছ বা তৃষ্ণার্ত ঘোড়াকে সাহায্য করা তো দূরের কথা, তাদের সে অবজ্ঞা করেছে। বুড়ির সঙ্গে কথা বলার সময়ও সে অত্যন্ত খারাপ ও উদ্ধত ভাষা ব্যবহার করেছিল। বুড়ির বাড়িতে পুকুরে ডুব দেওয়ার সময় সুখু ভেবেছিল বেশি ডুব দিলে বেশি গয়না পাবে, কিন্তু তার লোভের কারণে ফল হয়েছে উল্টো। দামি খাবার ও বড় পেটরা বেছে নেওয়া তাকে কেবল লজ্জাতেই ফেলেছে। এই স্বার্থপরতা ও বড়দের প্রতি অসম্মানই তার জীবনে দুঃখ ডেকে এনেছে। লোভের বশবর্তী হয়ে সে দামি খাবার ও বড় পেটরা নিয়েছিল, যা তাকে লজ্জায় ফেলে দেয়। প্রশ্ন: সুখু ও দুখুর মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো আলোচনা করো। তার চরিত্রের প্রধান গুণ হলো দয়া ও পরোপকার। তার মধ্যে কোনো লোভ ছিল না, যা বুড়ির বাড়িতে তার আচরণে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
অন্যদিকে দুখুর চরিত্র আমাদের জন্য আদর্শ। সে ছিল পরম দয়ালু। দমকা বাতাসে তুলা হারিয়ে পথে একটি অসহায় কলাগাছ ও ক্ষুধার্থ ঘোড়াকে দেখে সে নিজের কষ্টের কথা ভুলে তাদের সাহায্য করেছে। লতাপাতা সরিয়ে কলাগাছকে মুক্ত করা বা ঘোড়াকে ঘাস খাইয়ে সেবা করা—এ সবই তার অকৃত্রিম মানবিক আচরণের উদাহরণ। বুড়ির বাড়িতে গিয়েও সে তার নির্লোভ মনের পরিচয় দিয়েছে। বুড়ি যখন তাকে উপহার নিতে বলেন, তখন দুখু দামি গয়না বা কাপড় না নিয়ে সাধারণ কাপড় ও পান্তা ভাত বেছে নিয়েছে। এমনকি পেটরা নেওয়ার ক্ষেত্রেও সে সবচাইতে ছোট ও নিজের হারিয়ে যাওয়া তুলার সমান পেটরাটিই পছন্দ করেছে। এই ‘অল্পে তুষ্টি’র মানসিকতা ও বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা তাকে সবার প্রিয় করে তুলেছে।
বুড়ির বাড়িতে দুখু ও সুখুর আচরণের মধ্যে যে বৈপরীত্য দেখা যায়, তা থেকেই তাদের ভাগ্যের পার্থক্য তৈরি হয়। দুখু নম্র কণ্ঠে বুড়ির কুশল জানতে চেয়েছিল এবং বিনয়ের সঙ্গে তার নির্দেশ পালন করেছিল। কিন্তু সুখু বুড়িকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করে দামি জিনিস দাবি করেছে। দুখু ধৈর্য ও শ্রদ্ধার সঙ্গে সব মেনে নিয়ে পুরস্কৃত হয়েছে, আর সুখুর অধৈর্য ও লোভ তাকে চরম শাস্তি দিয়েছে। দুখুর মতো নিরহংকার জীবন গড়াই এই গল্পের মূল শিক্ষা। আমাদের উচিত দুখুর মতো নিরহংকার হওয়া এবং অন্যের উপকারে এগিয়ে আসা।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান এই বিষয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন, যা পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ গঠনে সহায়ক হবে।





