হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও, সম্প্রতি শহীদ নূর হোসেন হলের কমনরুমে ছাত্রদলের লোগো স্থাপনের ঘটনা ক্যাম্পাসে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের হাবিপ্রবি শাখার নেতাকর্মীরা হলটির ওই স্থানটিতে ‘শেখ রাসেল কর্নার’ তৈরি করেছিল। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর শিক্ষার্থীরা সেই কর্নারটি অপসারণ করেন। তবে সম্প্রতি সেখানে ছাত্রদলের প্রতীক লাগানোয় পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
হলটির কমনরুমে রাজনৈতিক সংগঠনের লোগো বসানোর বিষয়ে শহীদ নূর হোসেন হলের হল সুপার অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান হাফিজ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। তবে তিনি ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে রাজনৈতিক সহাবস্থান বজায় থাকায় বিশৃঙ্খলার কোনো আশঙ্কা দেখছেন না। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে ছাত্রশিবির।
হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রেজওয়ানুল হক ঘটনাটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, হলের টিভি রুম বা কমন স্পেস সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরপেক্ষ জায়গা, যা কোনো নির্দিষ্ট দলের কার্যালয় নয়। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা অতীতে হলগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের যে সংস্কৃতি দেখেছে, তার পুনরাবৃত্তি প্রত্যাশা করে না। প্রশাসনের প্রতি তিনি অবিলম্বে টিভি রুম থেকে ছাত্রদলের লোগো সরিয়ে নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাজনৈতিক অধিকার অস্বীকার না করলেও হলের কমন স্পেসে দলীয় প্রতীক স্থাপন করা মোটেও সমীচীন নয়।
তবে হাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি এহসানুল কবির অর্ণব হলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে দেখার মতো। তার ভাষ্যমতে, দলকে ধারণকারী কিছু অনুসারী ছোট ভাইরা সেখানে লোগোটি লাগিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাস মুক্ত রাজনৈতিক চর্চার জায়গা এবং চাইলে শিবিরও তাদের লোগো সেখানে স্থাপন করতে পারে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর পেছনে অন্য কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নেই।





