বাংলাদেশের সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত রোববার জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম সেন্টারে অনুষ্ঠিত কমিটির তৃতীয় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই পরিকল্পনার কথা জানান। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম সেন্টারে সংবিধান সংশোধন কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে যে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ যুক্ত করা হয়েছিল, তা আবারও ফিরিয়ে আনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এটি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বলেও তিনি জানান।
সালাউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধান সংশোধনীর ক্ষেত্রে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানিয়েই এই সংস্কার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে মতামত নিতে জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় করেছে কমিটি। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত লিখিত ও মৌখিক প্রস্তাবগুলো সংকলন করে প্রতিবেদন ও পুস্তিকা তৈরি করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী জনগণের কাছ থেকে ম্যান্ডেট পাওয়া বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে। বিভক্তি এড়িয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিতে চায় কমিটি।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য আবারও আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কমিটির সভায় সাংবাদিকরা বিরোধী দলের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন, যার সাথে কমিটি একমত পোষণ করেছে। জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার সবাইকে এই প্রক্রিয়ায় স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। তারা কমিটিতে যোগ দিলে স্বাগত জানানো হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি একটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো সংসদ যাতে সহজে এই ব্যবস্থা বাতিল করতে না পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলোতে এমন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে যাতে পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে গণভোটের বাধ্যবাধকতা থাকে।
সালাউদ্দিন আহমদ নিশ্চিত করেছেন যে, সংবিধানের কিছু নির্দিষ্ট ধারা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সম্মতির আগে গণভোটের প্রয়োজন হবে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল হওয়ার পর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনরায় কার্যকর হওয়ায় এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। সংসদের বিল পাসের পরেই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল হওয়ায় ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।
কমিটির লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করার জন্য জোর চেষ্টা চলছে। এরপর আইন মন্ত্রণালয় সংশোধনী বিল প্রণয়ন করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করা সম্ভব হবে। যথাযথ আলোচনা ও সংশোধনী প্রক্রিয়া শেষে তা পাস করে গণভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।





