সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলায় অন্তত তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, দেশটির কুনাড় প্রদেশে একটি বাড়িতে হামলার ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। এছাড়া পাক্তিকাপ্রদেশের বারমাল জেলায় দুটি স্থানে বোমা হামলা চালানো হলেও সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। হামলায় একটি দোকান ও একটি জনশূন্য বাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এই হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কয়েক মাস তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করলেও সীমান্ত এলাকা ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক নতুন করে টানাপোড়েনের শিকার হয়। মূলত পাকিস্তানে নিয়মিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার জেরে এই বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানে আন্তঃসীমান্ত হামলা চালাচ্ছে এবং কাবুল তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। যদিও তালেবান সরকার বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সন্ত্রাসবাদকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দাবি করে আসছে।
উল্লেখ্য, উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে একটি পুলিশ স্থাপনায় ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার কয়েকদিন পরই এই বিমান হামলার খবর এলো। ঐতিহাসিকভাবে গত মার্চ মাসেও আফগানিস্তানে পাকিস্তানের এক বিমান হামলায় চার শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। অন্যদিকে গত জুলাই মাসে আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ তোলে, যা পাকিস্তান বাহিনী প্রতিহত করেছিল বলে দাবি করে। সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিশাল বিমানবাহিনী থাকলেও আফগানিস্তানের নিজস্ব যুদ্ধবিমান নেই; তাদের বহরে কেবল ছয়টি বিমান, ২৩টি হেলিকপ্টার ও কিছু ড্রোন রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দীর্ঘদিনের মিত্র ও প্রতিবেশী এই দুই দেশের সম্পর্কে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয় গত ফেব্রুয়ারিতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত মার্চ মাসে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের একটি বিমান হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন।






