ইরান সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং আন্তর্জাতিক সম্পদ স্থানান্তরে সহায়তা করার অভিযোগে কানাডায় নিবন্ধিত আটটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন অর্থ বিভাগ। স্থানীয় সময় শুক্রবার এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়। অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্টের অংশ হিসেবে গৃহীত এই পদক্ষেপে কানাডার ফাইন্যান্সিয়াল ট্রানজাকশনস অ্যান্ড রিপোর্টস অ্যানালাইসিস সেন্টারের সঙ্গে মার্কিন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক যৌথভাবে কাজ করেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মার্কিন অর্থ বিভাগ এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণা দেয়। এদিকে, মার্কিন অর্থ বিভাগের এই ঘোষণার পরপরই কানাডার ফাইন্যান্সিয়াল ট্রানজাকশনস অ্যান্ড রিপোর্টস অ্যানালাইসিস সেন্টার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে জানান ো হয়, মানি সার্ভিস ব্যবসাগুলোর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নিতে তারা মার্কিন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সম্যান নেটওয়ার্কের সঙ্গেযৌথভাবে কাজ করেছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী ও তাদের মদদপুষ্টদের নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়ার কাজে যারা সহযোগিতা করবে, কানাডাকে তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় রয়েছে ডাইভার্স ট্রেড ইনক, বিসি লিমিটেড, টপ পিসি টেকনিশিয়ান ইনক, এনআইএ ন্যাশনস কারেন্সি লিমিটেড, ২৩৯৭৬৩৯ অন্টারিও লিমিটেড, সিসিসি ইনক, বি গ্যালাক্সি ইনক এবং দায়বিশ এক্সচেঞ্জ। অন্টারিও ও ব্রিটিশ কলম্বিয়াভিত্তিক এই মানি সার্ভিস ব্যবসাগুলো ইরানি রিয়ালসহ বিভিন্ন মুদ্রাকে ডিজিটাল ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করতে সহায়তা করত বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এদের একাংশ আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের শীর্ষ নেতাদের লেনদেনেও যুক্ত ছিল।
একইসঙ্গে মার্কিন কর্তৃপক্ষ সেচেলসে নিবন্ধিত জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম এমইএক্সসি গ্লোবালের ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ফিনসেনের তথ্যমতে, ইরান, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অন্তত ১৬ বিলিয়ন ডলারের অবৈধ লেনদেনে সহায়তা করেছে এই প্ল্যাটফর্মটি। এর আগে গত সপ্তাহে ভারত ও তুরস্কেও ইরানের তেল ও বিমান খাতের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তাকারী একটি নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। সংস্থাটির অভিযোগ, ইরান, উত্তর কোরিয়া এবং রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এই প্ল্যাটফর্মটি অন্তত ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শাসকগোষ্ঠী এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অর্থনৈতিক লাইফলাইনগুলো বিচ্ছিন্ন করাই ওয়াশিংটনের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এই কঠোর অর্থনৈতিক চাপের ফলে ইরানি মুদ্রার মান রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে এবং দেশটিতে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।






